সৌদিতে বাসে আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি দুই ভাই

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রী বহনকারী একটি বাসে আগুন লেগে নিহত ৩৫ যাত্রীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার দুই সহোদর রয়েছেন। এ ঘটনায় একই বাসে থাকা তাদের ছোট ভাই আহত হয়েছেন। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মদিনা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে হিজরা রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই সহোদর হলেন- কাঞ্চন পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকার হাবিব উল্লাহ্ মিয়ার ছেলে বড় ছেলে আব্দুল হালিম (৩২) ও মেজো ছেলে দ্বীন ইসলাম (২৮) । এ সময় একই বাসে থাকা ছোট ছেলে ইসলাম উদ্দিন (২৫) আহত অবস্থায় সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার দিকে আহত ছোট ছেলে ইসলাম উদ্দিন মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে এ খবর জানান।

এদিকে একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। এলাকার আশপাশের শতশত লোকজন তাদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসছে।

ছোট ভাই ইসলাম উদ্দিনের বরাত দিয়ে বোন সীমা আক্তার জানান, গত বুধবার কাজ শেষে জিহরা এলাকা থেকে মদিনায় ফেরার জন্য তারা ওমরা যাত্রীবোঝাই একটি গাড়িতে চড়েন। তারাসহ মোট ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি গন্তব্যস্থলে আসতেছিল। স্থানীয় সময় রাত ৭টার দিকে মদিনা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে হিজরা রোডে একটি লোডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল হালিম ও দ্বীন ইসলামসহ ৩৫ যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। গুরুতর আহত হন ইসলাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। তাদের স্থানীয় আল হামনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সীমা আক্তার আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার তিন ভাই আব্দুল হালিম, দ্বীন ইসলাম ও ইসলাম উদ্দিন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে বসবাস করে আসছেন। তারা সেখানে ঠিকাদারি কাজ করত। নিহত আব্দুল হালিমের আলাউদ্দীন নামে ৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে ও দ্বীন ইসলামের ১৪ মাসের হালিমা আক্তার নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

মীর আব্দুল আলীম/আরএআর/এমএস