রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেয়া হবে না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে গিয়ে বন গেছে, পশু-পাখির আবাসসহ ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্য হাতি। প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন পানি তোলায় ক্রমে নিচে নামছে স্তর আর দেখা দিয়েছে পানি সংকট। এটি চলতে থাকলে আগামীতে উখিয়া-টেকনাফ মরুভূমিতে রূপ নেবে। তাই রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেয়া হবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদের ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ৮ম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

শুক্রবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির এ বৈঠকে সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী পাহাড় কাটা নিয়ে বলেন, যারা পাহাড় কাটবে তাদের রেহাই নেই। এনজিওরা পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

Coxsbazar

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্দিষ্ট স্থানে ৬৩টি হাতি চলাচলের পথ রয়েছে। এসব হাতির পথের চারদিকে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। তাই হাতিগুলো বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এসব হাতি সুরক্ষার। বিভিন্নস্থানে যাতায়াতের জন্য করিডোর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ৮ম সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কি পরিমাণ পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে এবং ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপনের। এজন্য কমিটি গঠিত হয়েছে।আগামী নভেম্বর মাসে এর প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে কমিটি।

কক্সবাজার শহরে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে সম্প্রতি শতাধিক মাদার ট্রি গাছ কাটার ব্যাপারে সাবের হোসেন চৌধুরী হোসেন বলেন, অনুমতি না নিয়ে নিজস্ব কম্পাউন্ডে গাছ কাটায় এখন কর্তনকৃত এসব গাছ বিক্রি ও বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে পারবে না আরআরআরসি। এ ব্যাপারে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষার উপর খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড় কাটা, বন ধ্বংস করাসহ নানাভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা হলেই মানুষসহ সমস্ত প্রাণীকুলের সুরক্ষা হবে।

Coxsbazar

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠকে উপস্থিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর আলম এমপি, আনোয়ার হোসেন এমপি, মো. মোজাম্মেল হোসেন, নাজিম উদ্দিন এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকগণও অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ও বিকেলে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিমান যোগে কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর সবাই মিলে দেখতে যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চলমান পরিস্থিতি। সেখানে চারপাশের ভয়াবহতা দেখে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি ও অন্যান্যরা।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর