ভোলায় থমথমে পরিস্থিতি, মুসলিম ঐক্যের সমাবেশ স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খালা নিয়ন্ত্রণে জেলায় বিজিবি, র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষে চারজন নিহতের প্রতিবাদে মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তারা সমাবেশ করছেন না।

সংগঠনের অন্যতম নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের বাধার কারণে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না পারায় তারা ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় মুসলিম ঐক্য পরিষদকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ দেড়শতাধিক মানুষ আহত হন।

এ ঘটনায় বিকেলে ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতারা সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশ ঘোষণার পাশাপাশি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- ধর্ম অবমাননা করায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাঁসি কার্যকর, নিহতদের লাশ বিনা পোস্টমর্টেমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও গ্রেপ্তারদের নিঃশর্তে মুক্তি।

জুয়েল সাহা বিকাশ/আরএআর/পিআর

টাইমলাইন