খুলনায় গোয়েন্দা নজরদারিতে জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক, সরকারি-বেসরকারি কাজে টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা, জুয়া-মদের আসর নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে খুলনায় গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর, বর্তমান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সরকারি উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছেন এই তালিকায়।

ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করে স্ব-স্ব গোয়েন্দা সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। নজরদারিতে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় অনেকেই এখন চলাফেরা করছেন সতর্কতার সঙ্গে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা মহানগরসহ জেলার প্রায় ১২৫ ব্যক্তি গোয়েন্দা সংস্থার এ তালিকায় আছেন। তাদের মধ্যে আছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কাউন্সিলর, সাবেক ও বর্তমান ২/৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের নির্বাচিত দাপুটে এক সদস্য, মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা, বতর্মান ও সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা, বিএনপির একাধিক নেতা, খুলনা ওয়াসার পরিচালনা বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্য এবং কোচিং সেন্টারের মালিক।

তাদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা উপায়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে গত কয়েক বছরের শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। খুলনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে গড়েছেন একাধিক বহুতল ভবন। স্ত্রী, সন্তানের নামে-বেনামেও রেখেছেন সেই সম্পদ।

এছাড়া জুয়া ও মদের আসর নিয়ন্ত্রণসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লালন পালনের অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। সর্বোপরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও শেল্টারদাতা হিসেবেও অনেকে এ তালিকায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকজনের নামও আছে এই তালিকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর ৮টি থানা এলাকায় প্রায় ৮০/৮৫ জনের নামে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন, সরকারি বেসরকারি কাজে টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা, জুয়া-মদের আসর নিয়ন্ত্রণ ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেকে গত কয়েক বছরে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে ব্যাংক একাউন্টসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে অবৈধ টাকার পাহাড়সহ শত বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। প্লট ব্যবসার নামে অনেকে দুর্বল অসহায় মানুষের জমি কেড়ে নিয়েছেন বলেও এসব গোয়েন্দা সংস্থার কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এই তালিকায় জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১৫ জনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শহরেই বসবাস করেন। তবে জেলায় তাদের পরিচিতি বেশি হওয়ায় তারা সেখানেই গোয়েন্দা তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই এসব বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই এসব ব্যক্তির প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

আলমগীর হান্নান/এমএমজেড/পিআর