খুলনায় আন্দোলনে নামছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯
ফাইল ছবি

খুলনায় একের পর এক আন্দোলন চলমান রয়েছে। এবার বেতন বৈষম্য দূরীরণের দাবি নিয়ে মাঠে নামছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আগামী ২৩ অক্টোবর খুলনার শিক্ষকরা বিভাগীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের। আন্দোলনও কম হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতন পান। আর সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে।

প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে আর সহকারী শিক্ষককে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন বৈষম্য নিরসনের লক্ষে ২৯ জুলাই বেতন বাড়ানোর এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

৮ সেপ্টেম্বর তা নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সোমবার থেকে কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ডাকে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে এ আন্দোলনের সঙ্গে খুলনার কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জড়িত নয়। তবে তারাও বসে নেই। খুলনা বিভাগের শিক্ষকরাও নামছেন আন্দোলনে। আগামী ২৩ অক্টোবর খুলনা মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্ক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় সমাবেশ।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যোগে এ সমাবেশ দেশের প্রতিটি বিভাগে আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে পার্ক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে পার্ক ব্যবহারের অনুমতিও পেয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মহাজোটের খুলনা মহানগরী সভাপতি মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ঐক্য পরিষদের কোনো কর্মসূচি খুলনায় করা হয়নি। খুলনার শিক্ষকরা আগামী ২৩ অক্টোবর নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করবে। ইতোমধ্যে পার্ক ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোনো ধরনের আন্দোলন করা হবে না। সমাবেশে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা নেতাদের পাশাপাশি ৮-১০ হাজার শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছেন।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম সিরাজুদ্দোহা বলেন, খুলনায় এ ধরনের কর্মসূচি পালনের কোনো প্রস্তুতি নেই শিক্ষকদের। তাছাড়া সরকারি বিধির বাইরে শিক্ষকরা কোনো আন্দোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলমগীর হান্নান/এমএএস/জেআইএম