অভিযানের নামে জেলে ভাড়া করে ইলিশ ধরায় ৩ পুলিশ বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

থানার আওতাধীন এলাকার বাইরে গিয়ে অভিযানের নামে জেলে ভাড়া করে ইলিশ ধরার অপরাধে বরিশালের বন্দর থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নেয়ায় তিন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) আকরামুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দফতর থেকে এসব আদেশের কপি মঙ্গলবার সকালে বন্দর থানায় এসে পৌঁছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্য দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনে যোগ দেন।

বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিস, কনস্টেবল মোহম্মদ আলী ও মো. জুলফিকার আলী। এদের মধ্যে কনস্টেবল মোহম্মদ আলী ও জুলফিকার আলী রোববার রাতে পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ফাঁড়ি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। এ সময় এসআই আনিসসহ অন্যরা পালিয়ে যান। আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. তরিকুল ইসলাম, মো. এহসান, মো. সোহেল ও কনেস্টবল মো. ইব্রাহিম এবং মো. জাকির।

মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মৎস্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে না নিয়ে ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই অভিযানে গিয়েছিলেন তারা। তারা বলেছেন ভুলক্রমে বাউফল জলসীমায় ঢুকে পড়েন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত হয়ে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) আকরামুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, রোববার রাতে বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও কালাইয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তেঁতুলিয়া নদীতে টহলে যান। এ সময় তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া পয়েন্টে ইলিশ ধরা অবস্থায় একটি ট্রলার থেকে বরিশালের বন্দর থানার কনস্টেবল জুলফিকার আলী ও মোহাম্মদ আলীসহ চার জেলেকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুটি বোটে এসআই আনিসসহ অন্যরা পালিয়ে যান।

বাউফলের কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহাগ ফকির বলেন, আটককৃত দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট আটজন পুলিশ সদস্য একটি স্পিডবোট, একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকার করছিলেন। কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির টহল দলকে দেখে স্পিডবোট ও নৌকাযোগে পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে যান। আটক হওয়া চার জেলে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদেরকে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে মাছ ধরতে আনা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে এসে আটককৃত দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে যান।

সাইফ আমীন/এএম/এমএস