শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সিলেট অনন্য : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:৫৩ এএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

সাঙ্গ হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষপূর্তি উৎসব। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী ও রবীন্দ্র গবেষকদের নিয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় চার দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সিলেট বিশ্বের অনন্য প্রতীক। এখানকার মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে তা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সিলেটের যে কোনো সাংস্কৃতিক উৎসবে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এক কাতারে চলে আসে। সংস্কৃতি নিয়ে সিলেটে কোনো ধরণের ভেদাভেদ নেই।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে সংঘাত, সহিংসতা, হিংসা বিদ্বেষ ও তথ্য জালিয়াতি ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু আমাদের সিলেটে সেই সংঘাত-সহিংসতা, হিংসা বিদ্বেষের নজির নেই। এই সম্প্রীতি আমাদের টেকসই শান্তি এনে দিতে পারে।

ড. মোমেন বলেন, আমি প্রায় দেখেছি পৃথীবিতে যে যুদ্ধবিগ্রহ চলছে তার একমাত্র কারন মানুষের প্রতি মানুষের হিংসা-বিদ্বেষ ও একজনের প্রতি অন্যজনের অশ্রদ্ধাবোধ। মানুষের প্রতি মানুষের মায়া মমতা ও শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়া এবং অজ্ঞতার কারণে দেশে দেশে যুদ্ধবিগ্রহ চলছে। চলছে ধর্মভিত্তিক আগ্রাসনও। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

sylhet02.jpg

সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক ও সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড. ইনাম আহমদ চৌধুরী, ভারতের বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ও সাহিত্যিক উষা রঞ্জন ভট্টাচার্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব পর্ষদের সদস্য সচিব ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

আলোচনাসভা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সংঙ্গীত পরিবেশন করেন ভারতের পূর্ণদাস বাউল, বাংলাদেমের রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ভারতের অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলাদেশের লাইসা আহমেদ লিসাসহ সিলেটের আঞ্চলিক ও দেশের অন্যান্য শিল্পীরা। এর আগে বিকেল সিলেটের আঞ্চলিক শিল্পীদের নিয়ে দলীয় নৃত্য ও একক আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

গত ৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেটের কিন ব্রিজের নিচে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরাল উন্মোচনের মধ্যদিয়ে চার দিনব্যাপী ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ উৎসব’শুরু হয়।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]