পুলিশ হেফাজতে যুবকের চোখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

নড়াইলের লোহাগড়া থানা পুলিশ হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামের এক যুবককে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের করা একটি মামলায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক গত বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) জামিনে মুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিহাব। লোহাগড়া পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের একমাত্র ছেলে তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিহাব মল্লিক বলেন, গত শনিবার (০২ নভেম্বর) সকালে আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ফুফাতো ভাই মনিরুল মল্লিক ও খাইরুল মল্লিকের সঙ্গে আমার হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে আমি ও আমার মা বিউটি বেগমকে আসামি করে ওই দিনই লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। পরের দিনর রোববার (০৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাড়ি থেকে আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান। পরিবারের লোকজন আমার সঙ্গে থানায় দেখা করতে গেলে দেখা করতে দেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে আদালতে পাঠানোর আগে আমাকে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে তিন দফায় নির্যাতন করেন এসআই সিদ্দিক। নির্যাতনের কারণে কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে কিছুটা সুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে আমাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আদালত চত্বরে আমার পরিবারের কাছে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের বর্ণনা দেই আমি। বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্ত হলে আমাকে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, শিহাবের দুই হাঁটু থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের স্থানগুলো ফুলে কালো হয়ে গেছে। তার সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।

শিহাব স্বজনরা জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে আতঙ্কে আছেন শিহাবের পরিবারের সদস্যরা।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, যেদিন শিহাবকে গ্রেফতার করা হয়েছে পরের দিন কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে কোনো অত্যাচার করা হয়নি।

নির্যাতন করা না হলে শিহাবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন কিভাবে হলো এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, তার শরীরে এসব দাগ আগ থেকেই ছিল কিনা সন্দেহ আছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকলে আসামিদের গ্রহণ করেন না আদালত।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন বলেন, শিহাব মল্লিককে গ্রেফতারের পরের দিন আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। জামিন পেয়ে এখন নির্যাতনের অভিযোগ করছে শিহাব। বিষয়টি সঠিক নয়। আর অসুস্থ ব্যক্তিকে আদালত কখনো গ্রহণ করে না।

এ ব্যাপারে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর লোহাগড়া থানার ওসিকে ফোন করে জানতে পেরেছি অভিযোগ সঠিক নয়। এরপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

হাফিজুল নিলু/এএম/পিআর