ফেনীতে আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজার মানুষ, খাবার না পাওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে। এটি আরও উত্তর অথবা উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার (০৯ নভেম্বর) মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

এ অবস্থায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন আশ্রিতরা।

সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মায়মুন আরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে সেখানকার আশ্রিতরা বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের কোনো ধরনের খাবার ও পানি দেয়া হয়নি।

feni-(1)

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রিয়রঞ্জন নামের একজন বলেন, আমাদের এখানে এনে রাখা হলেও কোনো ধরনের খাবার এবং পানি দেয়া হয়নি।

এদিকে, উপজেলার চরচান্দিয়া, চরদরবেশ, আমিরাবাদ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সোনাগাজীতে অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্রসহ উপজেলার সব কয়টি বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং ১০টি চিকিৎসক দল, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ দুই হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে শুকনা খাবার।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ থাকার পাশাপাশি, ভিন্ন স্থানে গৃহপালিত পশুগুলো রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ওই এলাকার মানুষের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনাসহ জনগণকে সতর্ক করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

feni-(1)

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী পৈার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে থাকার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী নির্দেশ দিয়েছেন। সে আলোকে আমরা মাঠে রয়েছি। চরাঞ্চল থেকে মানুষকে আমরা নিরাপদে আনতে সক্ষম হয়েছি।

ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষতি এড়াতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বিপন্ন এলাকার মানুষকে ইতোমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার মজুত রয়েছে।

ত্রাণ না পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সব কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়েছে। সবাই খাবার পাবে।

রাশেদুল হাসান/এএম/এমকেএইচ