কাগতিয়া শরিফের ঈদে মিলাদুন্নবি মাহফিলে নবিপ্রেমীকের ঢল

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৩ এএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে হুজুর পাক (ﷺ) নিজ চারিত্রিক গুণাবলির দ্বারা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার বিদীর্ণ করে সমগ্র জগতকে আলোকিত করেছিলেন। তার নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে কিশোর বয়সে তিনি হিলফুল ফুজুল গঠন করে যুব সমাজকে সততা, মহানুভবতা ও দেশপ্রেম শিক্ষা দিয়েছিলেন। রাসূলে পাক এর সে শান্তির মিশন সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গত ৯ নভেম্বর (শনিবার) চট্টগ্রাম বায়েজিদস্থ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্সে ৬৬তম জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবি (ﷺ) মাহফিলে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে বক্তারা এ কথা বলেন।

তরুণ ও যুব সমাজকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের মুল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, কাগতিয়া আলীয়া দরবার শরীফের হুজুর কেবলা দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে এ তরিক্বতের মাধ্যমে ইমানদার, সৎ ও দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে মানব সম্পদে রূপান্তর করছেন।

বক্তারা উপস্থিত তরিক্বতপন্থীগণের উদ্দেশ্যে বলেন, তরিক্বত অনুসারীদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি আচরণ এমন হওয়া উচিত যা অন্যদেরকে ভাল কাজে অনুপ্রাণিত করবে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেককে সব সময় যত্নশীল ও সচেতন থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, হাফেজ মাওলানা আরিফ, মাওলানা মুহাম্মদ এরশাদ হোসাইন, মাওলানা ইউছুফ মুনিরী, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হক, মাওলানা মুহাম্মদ মনসুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছরওয়ার কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

মাহফিলে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের হুজুর ক্বেবলা অসুস্থতাজনিত কারণে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনানো হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন আল্লাহ এবং রাসুল (ﷺ) এর নির্দেশিত পথ ব্যতিত আমাদের অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। তিনি তরিক্বত অনুসারীদেরকে সদা-সর্বদা কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ) এর আদর্শ অনুসরন ও ধারণ করার আহ্বান জানান।

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) মাহফিল উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র খতমে কোরআন, সাংগঠনিক আলোচনা, বাদে আছর খতমে ইউনুচ ও দরূদে সাইফুল্লাহ, বাদে মাগরিব পবিত্র নাতে মোস্তাফা ও জিকিরে গাউছুল আজম মোর্শেদী। বাদে এশা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শীর্ষক আলোচনা, মিলাদ, কিয়াম, আখেরি মোনাজাত এবং তাবাররুক বিতরণ।

মিলাদ-ক্বিয়াম শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ্র সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন/এসএইচএস/এমএস