সুন্দরবনের ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে এক সপ্তাহেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খুলনা
প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯

মায়ের আঁচলের মতো ঢাল হয়ে আবারও দেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। এ অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষা করতে গিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের বহু স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন স্টেশন। এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তারা বনের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবেন। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, বনের সামগ্রিক ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে। জরিপ না করে এ বিষয়ে অনুমান করে কিছু বলা ঠিক হবে না। প্রাথমিকভাবে কোনো বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ ঘূর্ণিঝড় ভাটার সময় আঘাত হানায় জলোচ্ছ্বাস হয়নি। দমকা হাওয়ায় বনের ভেতরের গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ডালপালা ভেঙে গেছে। এ কারণে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নিরূপণ করা কঠিন। স্বচক্ষে দেখে ক্ষয়ক্ষতির একটি নির্ভুল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সে জন্য দু-তিনদিন সময় লাগতে পারে। বন বিভাগের ৬৩টি ক্যাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজ বাস্তবায়ন করবেন।

jagonews24

তিনি জানান, বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাঠি স্টেশনের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কদমতলার এফজি ব্যারাকের টিনের চাল উড়ে গেছে ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঠশ্বর অফিসের ছোট ট্রলার নদীতে ডুবে গেছে এবং পাকাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া কোবাদক স্টেশনের কাঠের ১০০ ফুট দৈর্ঘের জেটিটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ব্যারাকের চাল ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চুনকুড়ির সোলার প্যানেল উড়ে নদীতে ভেসে গেছে। দোবেকি টহল ফাঁড়ির ৪০ ফুট দীর্ঘ পন্টুনটি ভেঙে গেছে। নলিয়ান রেঞ্জ অফিসে যাতায়াতের রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই অফিস ঘিরে থাকা গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায় মোট ৩৬টি ক্যাম্প, ফাঁড়ি, রেঞ্জ ও স্টেশন রয়েছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

আলমগীর হান্নান/এমএমজেড/এমএস