আর্নিকা ও তার বোনের করুণ অবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯

রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের রতিরামপুর গ্রামের দিনমজুর হাসানুজ্জামান (৩৫)। বড় মেয়ে আর্নিকা আক্তার হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। দ্বিতীয় মেয়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। গত ২১ দিন আগে আরও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন তার স্ত্রী ইসমোতারা।

৩ শতক জমির উপর বাড়ি-ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। নুন আনতে পান্তা ফুরায়-এমন অবস্থায় বড় ও ছোট মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা দিশেহারা করে তুলেছে হাসানুজ্জামানকে। এবারে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতেও পারেনি আর্নিকা।

হাসানুজ্জামান জানান, গত চার মাস আগে বড় মেয়ে মেরুদণ্ডের ব্যথা অনুভব করতো। ৩ মাস আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. তোফায়েল হোসেন ভুঞা আর্নিকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মেরুদেণ্ডর টিউমার হয়েছে বলে জানান। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করলেও ব্যথা কমছিল না। পরে বায়োপসি রিপোর্টে আর্নিকার ক্যান্সার ধরা পড়ে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ইতোমধ্যে মেয়ের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে দিনমজুর হাসানুজ্জামানের। এদিকে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে গত ২১ দিন আগে জন্ম নেয়া ছোট মেয়ে।

নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাড়িতেই তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলেও নাভির একটু ওপর থেকে নিচের অংশে তলপেটের চামড়া নেই শিশুটির। পেটের ভেতরে স্পষ্ট দেখা যায়। একদিকে বড় মেয়ে আর্নিকা আক্তারের অসুস্থতা, অন্যদিকে তলপেটের চামড়াহীন অবস্থায় জন্ম নেয়া নতুন শিশুটির চিৎকার। প্রায় ৩ সপ্তাহ যাবৎ ওই অবস্থায় বাড়িতেই আছে শিশুটি। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। সব মিলিয়ে অসুস্থ দুই সন্তানকে নিয়ে পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম দিনমজুর হাসানুজ্জামান। কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

হাসানুজ্জামান বলেন, ধার করে বড় মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়েছে। ছোট মেয়ের চিকিৎসা করানোর মত আর্থিক সামর্থ্য নেই। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

হাসানুজ্জামানকে সাহায্য করতে চাইলে ০১৭৯৪-৮৫৬১৮৩ (ব্যক্তিগত) বিকাশ নম্বরে অথবা সোনালী ব্যাংক ধাপ, রংপুর শাখায় ০১০১১১০৯ হিসাব নম্বরে সহায়তা পাঠানো যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, হাসানুজ্জামানের বড় মেয়ে আর্নিকার অপারেশনের সময় কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। তার ছোট মেয়ের বিষয়টি শুনেছি।

জিতু কবীর/এমএএস/এমএস