স্থায়ী আবাস পাচ্ছে সেই পাখিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:২৭ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসার আমবাগানে বাসা বাঁধা শামুকখোল পাখি পাচ্ছে স্থায়ী আবাস। আর এ জন্য আমবাগানসহ আশপাশের ১০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করবে সরকার। খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা এসেছে জেলা প্রশাসকের কাছে।

এর আগে পাখি কলোনির বাসা ভাড়া বাবদ বছরে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন। বরাদ্দ পেলে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষি অথবা বাগান মালিককে দেয়ার কথা। তবে ভাড়ায় নয়, স্থায়ী পাখি কলোনি গড়ে তোলার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, পাখির বাসা ভাড়া বাবদ অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ভূমি অধিগ্রহণের মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী অভয়ারণ্য করা গেলে পাখিরা আর অন্য কোথাও যাবে না। পাখিদের স্থায়ী আবাস তৈরি করা হলে তাদের কেউ বিরক্তও করবে না। এজন্য প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাখি কলোনি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে মোট ৩৮টি গাছে শামুকখোল পাখি বাসা বেঁধেছে। ওই গাছগুলোতে বছরে কী পরিমাণ আম ধরে এবং তা না হলে কেমন ক্ষতি হবে তা নিরূপণের চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, মালিক পক্ষ, ইজারাদার, স্থানীয় বাসিন্দা, আম ব্যবসায়ীসহ সবপক্ষের হিসাব অনুযায়ী পাখির বাসা সেখানে থাকলে বছরে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে। সেই অনুযায়ী আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেই। জেলা প্রশাসক যাচাই করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, কলোনির পাখিগুলো পরিযায়ী। প্রতি বছরই পাখিগুলো এক বাগানে বাসা বাঁধে না। তবে গত চার বছর ধরে এই বাগানে তারা বাসা বাঁধছে। আগামীতে অন্য অন্য এলাকায় চলেও যেতে পারে। অভয়ারণ্য ঘোষণায় এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/পিআর