৪ বছর ধরে ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন বন্ধ, বিপাকে উদ্যোক্তারা

ফেরদৌস সিদ্দিকী ফেরদৌস সিদ্দিকী , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

গত চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নতুন ফিলিং স্টেশন অনুমোদন। এতে অর্থলগ্নি করে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকশ উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) দাবি, চালু ফিলিং স্টেশনগুলো ভেজাল ও ওজনে কম দিচ্ছে। আর এই কারণেই অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে এই যুক্তিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বছর নতুন পেট্রলপাম্পের অনুমোদন দেয়া হয়নি। এরপর ২০১৮ সালের ১ জুলাই নতুন একটি নীতিমালা হয়। এই নীতিমালার আওতায় ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন পেতে আবেদন করেন শতাধিক উদ্যোক্তা। যাচাই বাছাই শেষে চলতি বছরের মার্চে মাত্র ৪০টি আবেদনের ছাড়পত্র দেয় বিপিসি। ছাড়পত্র পেয়ে উদ্যোক্তারা জ্বালানি তেল বিপণনকারী তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার আওতায় ডিলারশিপ পেতে চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে আটকে যায় সেই প্রক্রিয়া।

মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশে বলা হয়, দেশব্যাপী ফিলিং স্টেশনগুলো ভেজাল ও পরিমাপে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এই অবস্থায় প্রত্যন্ত এলাকায় আরও ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হলে শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গৃহীত ব্যবস্থায় ভেজাল রোধ ও সঠিক পরিমাপে জ্বালানি তেল সরবরাহ দুরূহ হয়ে পড়বে। এই অবস্থায় নতুন ফিলিং স্টেশন অনুমোদন বন্ধের কথা জানায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এরপর নতুন ডিলার
নিয়োগ প্রক্রিয়াও বন্ধ করে দেয় বিপিসি।

মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের ফলে মোটা অর্থলগ্নি করে চরম বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের এই যুক্তি একেবারের খোঁড়া। আর এই যুক্তিকে নতুন ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে সেটিও অযৌক্তিক। এটি একজনের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়ার মত।

রাজশাহীর উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম বলেন, শহরাঞ্চলের বাইরে এখনো জ্বালানি তেল সহজলভ্য নয়। কেউ ভেজাল জ্বালানি বিক্রি করে বলে নতুন করে ডিলারশিপ দেয়া যাবে না-এটি মাথা ব্যথায় মাথা কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত থেকে মন্ত্রণালয়কে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ফিলিং স্টেশনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন ভোলার উদ্যোক্তা নুর নবী সিকদার। তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ জোগাড় করে ফিলিং স্টেশনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। দীর্ঘসময় অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমোদন জটিলতায় আটকে থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোর অধিকাংশই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বা শহর মহানগরীর বাইরের। এসব এলাকায় জ্বালানি তেলের বিভিন্ন ধরণের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ছাড়াও উপকূলীয় এলাকারই বেশি আবেদনকারী যেখানে যানবাহন ছাড়াও নৌযান চলাচল ও সেচযন্ত্রের জন্য বিপুল জ্বালানির প্রয়োজন হয়।

ফিলিং স্টেশন অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন বিপিসির চেয়ারম্যান (সচিব) মো. সামছুর রহমান। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক সড়ক অবকাঠামো গড়ে ওঠার পাশাপাশি যানবাহনও বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বেড়েছে।

প্রত্যন্ত এলাকায় ফিলিং স্টেশন গড়ে উঠলে ক্রেতারা সুবিধামত জায়গায় জ্বালানি নিতে পারবেন। ফলে ডিলারশিপ দেয়া বন্ধ না রেখে বাস্তব প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব এএইচএম রহমাতুল মুনিমের দফতরে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। সচিবের অবর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আরএআর/এমকেএইচ