নওগাঁয় লবণের দাম বেশি নেয়ায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৫:১০ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

পেঁয়াজের ঝাঁজ কাটতে না কাটতে হঠাৎ করেই নওগাঁর বাজারগুলোতে লবণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে লবণ কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লবণ মজুত রাখা ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে পলাশ নামে এক দোকানিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিনের সাজা প্রদান করেছে। তার বাড়ি সদর উপজেলার র্কীত্তিপুর গ্রামে।

এদিকে, জেলা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দিতে বাজারগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মান্দা উপজেলার জাতবাজারে লবণের কেজি প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকা, সতিহাটে খোলা লবণ প্রতিকেজি ৩০-৫০ টাকা, চৌবাড়িয়া হাটে ৬০-৭০ টাকা, বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ী বাজারে প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রশানের অভিযান পরিচালনা করায় লবণের বাজার ছিল স্থিতিশীল। তবে অধিকাংশ মুদি দোকানগুলোতে লবণ পাওয়া যায়নি।

দোকানিরা বলেছেন, গত কয়েকদিন থেকে পরিবহন না চলায় বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। আর এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছেন।

jagonews24

শহরের তাজের মোড় শহীদ নুরনবী পৌর মার্কেটে সন্ধ্যায় দেখা যায়, মুদি দোকানে লবণ কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মুদি দোকানি জেরিন স্টোরের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই দুপুর পর দোকানে লবণের ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যায়। ঘণ্টা চারেকের মধ্যে ১২০ কেজি লবণ বিক্রি হয়ে যায়। প্রতিকেজি লবণ মোটা ২০ টাকা এবং চিকন ৩০ টাকা কেজি। আগেও একই দামে বিক্রি করা হয়েছিল।

সদর উপজেলার মাদার মোল্লা গ্রামের আফসার উদ্দিন বলেন, লবণের দাম বেড়ে গেছে শুনে বিকেলে বাজারে কিনতে গিয়েছিলাম। দেখি প্রতিকেজি লবণ ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যেহেতু শহরে কাজে আসছি তাজের মোড় থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি লবণ কিনেছি।

তিনি ক্ষোভ করে বলেন, আমরা হচ্ছি- হুজুকে বাঙালি। গুজবে কান দিই। যারা একটার পর একটা গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। সেই সাথে প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং। যাতে হঠাৎ করেই দোকানিরা কোনো পণ্যের দাম বেশি রাখতে না পারে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অব্দুল্লাহ মামুন বলেন, পলাশ র্কীত্তিপুর বাজারে কনফেকশনারী দোকানের একজন কর্মচারী। তার নিজস্ব কোনো দোকান নেই। লবণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার গুজবে বাজার দামে ৫ বস্তা লবণ কিনেছিলেন। এক বস্তা দোকানে রেখে বিক্রি করেছেন এবং বাকি চার বস্তা বাড়িতে মজুত রেখেছিলেন। গোপনে বিষয়টি জানার পর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ি থেকে চার বস্তা লবণ উদ্ধার করা হয়। যেহেতু তিনি লবণ ব্যবসায়ী না বা তার দোকানে কখনো লবণ বিক্রি হয়নি। এ অপরাধে তাকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়েছে।

নওগাঁ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, গুজবে কান না দিয়ে লবণ, চাল অথবা অন্য যে কোনো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য অতিরিক্ত দামে বিক্রয় মজুত অথবা এ সংক্রান্ত গুজব সৃষ্টির খবর পাওয়া গেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ০১৭১৭-৬০৯০৫৩ নম্বরে মোবাইল অবহিত করতে বলা হয়েছে।

হঠাৎ করেই লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে জেলার মাইকিং করা হয়। এ ছাড়া ১১ উপজেলায় ১৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লবণের দাম বেশি রাখায় ২১টি মামলা করা হয়। সেই সাথে ২৭ বস্তা লবণ উদ্ধার ও বিভিন্ন দোকানির কাছ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১ জনকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়।

আব্বাস আলী/এমআরএম