দুই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা দিলেন এসপি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের টিনের দোকানের কর্মচারী সুশান্ত দাশের মেয়ে নিশিতা দাশ। চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিলেন না নিশিতা।

সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০০তম স্থান অর্জন করে সুযোগ পায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ। কিন্তু নিশিতার ভর্তির জন্য এককালীন এত টাকা দেয়া দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। খবর পেয়ে নিশিতার পাশে দাঁড়ান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা।

একইভাবে চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের ফেরিওয়ালা আব্দুস শহীদের মেয়ে কুলসুমা আক্তার সুযোগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিবিএ ইউনিটে ৮৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। ভর্তির টাকার জন্য হতাশ হয়ে পড়েন কুলসুমা। তার জন্যও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে অফিসে ডেকে নিশিতা দাশ ও কুলসুমাকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। একই সঙ্গে তাদেরকে মিষ্টি মুখ করান তিনি। এই টাকা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান দুই ছাত্রী। ভবিষ্যতে তাদেরকে সহায়তা ও পাশে থাকার ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমি সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে এগিয়ে আসার চেষ্টা করি। তবে সবাই যদি এমন অধম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে তারা একদিন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। দুই দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীর পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

তিনি বলেন, হবিগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যখন কোনো নিয়োগ পরীক্ষা হয় তখন চা শ্রমিকের সন্তান, দরিদ্র ও অনগ্রসর পরিবারের সন্তানদেরকে চাকরিতে অগ্রাধিকার দেই।

এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]