বাস-ট্রাক ধর্মঘটে দুর্ভোগে পাসপোর্টযাত্রীরা, পণ্য খালাস বন্ধ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

নতুন সড়ক আইন সংশোধনসহ ১০ দাবিতে সারাদেশের মতো বেনাপোলে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। যশোরের ১৮টি রুটে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে চতুর্থ দিনেরমতো বুধবার (২০ নভেম্বর) দূরপাল্লা ও আন্তজেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাসের সঙ্গে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকায় বুধবার সকাল থেকে স্থলবন্দর বেনাপোলে দেখা দেয় ভয়াবহ ট্রাক সংকট। ফলে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন পাসপোর্টযাত্রীরা।

তবে বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য আনলোডসহ দুদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সচল রয়েছে। আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রাক না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা। বাস-ট্রাক মালিক সমিতি হঠাৎ যশোরের ১৮টি রুটে ধর্মঘট ডাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

গত দুদিনে কিছু কিছু পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দর এলাকা ছেড়ে গেলেও পথিমধ্যে আটকে দিচ্ছেন ট্রাক শ্রমিকরা। ফলে বন্দর এলাকায় ট্রাক থাকলেও ভয়ে পণ্য পরিবহন করতে রাজি হচ্ছেন না। পণ্য পরিবহন না হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, শ্রমিক ধর্মঘটে বন্দর থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। শত শত পণ্য চালানের সরকারি শুল্ক পরিশোধ করার পরও ট্রাক ধর্মঘটে বন্দর থেকে খালাস নেয়া যাচ্ছে না। ফলে বন্দরে ভয়াবহ পণ্যজট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য রাখার জায়গা না থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই কয়েকশ ট্রাক বন্দর ও বন্দরের আশেপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে আছে। পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাকগুলো।

প্রতিদিন ভারত থেকে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ ট্রাক পণ্য বেনাপোলে আসে। দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। প্রতি বছর সরকার এ বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। ধর্মঘটে আমদানি পণ্য আটকা থাকায় দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদনকাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। শ্রমিকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না। অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার জন্য নতুন সড়ক আইনে তাদেরকে ‘ঘাতক’ বলা হচ্ছে। তাদের জন্য এমন আইন করা হয়েছে যা সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নতুন আইনের অনেক ধারার ব্যাপারে শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে। সরকার সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় রোববার থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। যা এখনো অব্যাহত।

Benapole-Bus-Truck-Staik-(2

এদিকে, বিভিন্ন সড়কে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নসিমন-করিমন ও ছোট যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ঈগল পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান বলেন, ঢাকা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি বাস চলাচল করছে। ট্রেনও চলছে। তবে ট্রাকসহ অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না। ভারত থেকে আসা যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেনসহ অন্যান্য যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

বেনাপোলের হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কে নিরাপত্তার অভাবে বাস ছাড়া যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই বাস ছাড়া হবে।

বেনাপোল ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন বলেন, পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থী। ফলে এই আইন মেনেসড়কে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না শ্রমিকরা। তারা বলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাবে না। এজন্যই ধর্মঘট।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটের কারণে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান বলেন, বাস-ট্রাক ধর্মঘটের মধ্যে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

জামাল হোসেন/এএম/এমকেএইচ