বাড়িতে ঢুকে মা, দুই ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

জমি-জমার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে বাড়িতে ঢুকে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মা, দুই ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আহত দুই ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার ঈশ্বরদী উপজেলার মানিক নগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার আলম মালিথার জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকালে আলম মালিথা ও তার ভাই লতিফ মালিথার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রহমানের মুরগির খামারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। সেসময় আব্দুর রহমানের দুই ছেলে শুক চাঁদ (৪০) ও জসিম (৩৫) তাদের বাধা দিলে তারা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন।

খবর পেয়ে তাদের মা মোছা. সেলিনা খাতুন ও পুত্রবধূ মোছা. আরজিনা খাতুন এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। শুক চাঁদ ও জসিমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ ঘটনায় বাবা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামাসহ মোট ২০ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রহমান জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আলম মালিথার সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তার দুই ছেলের জীবন সংকটাপন্ন জানিয়ে তিনি বলেন, মাথায় যে ধরনের কোপ মেরে জখম করা হয়েছে তাতে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকবে বলে মনে হয় না। হামলার সময় তারা ব্যাপাক তাণ্ডব চালায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত অরবিন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে।

আলাউদ্দিন আহমেদ/জেডএ/এমএস