চা শ্রমিকের ছেলে সুজনের পাশে দাঁড়ালেন মেয়র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

সুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান। এ সময় মেয়র তাকে কিছু কাপড়ও উপহার দেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ টাকা গ্রহণ করেন সুজন রবিদাস।এর আগে শুক্রবার জাগো নিউজে ‘টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না চা শ্রমিকের ছেলে সংবাদ প্রকাশ হলে অনেকেই পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন সুজন রবিদাসকে।

ভর্তির টাকা পেয়ে সুজন বলেন, আমি খুশি এবং আনন্দিত যে লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে পারবো। এ সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন।

এতোদিন প্রতিবেশীদের সাহায্যে লেখাপড়ার খরচ চললেও থেমে যাচ্ছিল মেধাবী ছাত্র সুজন রবিদাসের লেখাপড়া। টাকার অভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হতে পারেননি তিনি। সময়ে চলে যাবার পরে এখন শেষ আশা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু ভর্তি ফি’র ১৬ হাজার টাকা সংগ্রহ না করতে না পারায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। ১ ডিসেম্বর ভর্তির শেষ দিন। সুজন রবিদাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউরা চা বাগানের চা শ্রমিক নারায়ণ রবিদাসের ছেলে।

সুজনের বাবা নারায়ণ রবিদাস বলেন, আমার পক্ষে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। আমি চা বাগানে কাজ করে দৈনিক ১০২ টাকা আয় করি। আমার স্ত্রী, বড় ছেলে এবং আমার আয় মিলে মাসে ৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। সেটা দিয়ে চলে ৬ জনের সংসার।

তিনি বলেন, সুজনকে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া আসা এবং বইপত্র ও ভর্তির টাকাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার এবং ভর্তির পর তার থাকা খাওয়া বাবদ প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আমার ইচ্ছে থাকলেও আমি পারছি না। সরকার বা কোনো বিত্তবান এগিয়ে এলে তবেই সুজনের লেখাপড়া নিয়মিত হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ঘরে অনেক দিন খাবার থাকে না। প্রায়ই অর্ধেক খাবার সবাই মিলে খাই। কিন্তু আমার ছেলে এতো কিছুর মধ্যেও লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ নষ্ট হয়নি। আমার বড় ছেলেও টাকার জন্য লেখাপড়া করতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠেই বন্ধ হয়ে গেছে তার লেখাপড়া।

অদম্য মেধাবী সুজন খেয়ে না খেয়ে অভাবের সংসারে মানুষের সাহায্য নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়েছেন।

সুজনের লেখাপড়ায় বিভিন্ন সময় সাহায্য করে এসেছেন স্থানীয় কালিঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা। তিনি বলেন, সে খুবই মেধাবী। যদি লেখাপড়া শেষ করা পর্যন্ত কেউ তাকে সহযোগিতা করলে সে হয়তো ভালো করবে।

রিপন দে/এমএএস/এমকেএইচ