বাঁশে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতন : মেম্বারসহ কারাগারে ৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১১:৩৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

হাত-পা বেঁধে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতনকারী সিলেটের জকিগঞ্জের আলোচিত সেই ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম ওরফে ফকির মাস্তানসহ তার তিনসহযোগীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে জকিগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, সহযোগীসহ আব্দুস সালামকে গ্রেফতারের সংবাদে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা জকিগঞ্জের আটগ্রাম ও রতনগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ করেন।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. মোশারফ হোসেন জানান, শুক্রবার জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সালাম। এরপর বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আব্দুস সালাম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- এবাদ মেম্বার, আনোয়ার ও শাহজাহান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর পাল জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার নির্যাতিত গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় সালাম মেম্বার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করেন।

বিচারের নামে অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা, নারী কেলেঙ্কারী, দখলবাজী ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসেন ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম ওরফে ফকির মাস্তান। অথচ তার বিরুদ্ধে এতদিন প্রকাশ্যে কথা বলা কিংবা প্রতিবাদ করার দুঃসাহস কেউ দেখায়নি। প্রায় দেড়যুগ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় লোকের সঙ্গে সখ্যতা ও নিজের ক্ষমতা বলে নানা অপরাধ করেও আইনের ফাঁক দিয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।

নানা অপকর্মের হোতা সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলাসার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের এই সদস্য আব্দুস সালাম ওরফে ফকির মাস্তানকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ কানাইঘাট উপজেলার কাড়াবাল্লা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় তার তিন সহযোগীকে পুলিশ গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার সকালে।

জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় জানান, আব্দুস সালাম মেম্বার কর্তৃক একই ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে বাঁশে ঝুলিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতনের প্রায় ১০ মাস পূর্বের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্বত্র ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠে। তাকে গ্রেফতারের দাবি উঠে।

গত বুধবার রাতে নির্যাতনের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশক্রমে জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর আব্দুন নাসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন।

ছামির মাহমুদ/জেএইচ