যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তার বাড়িতেই ভূরিভোজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেনাকাটায় দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বাসায় ভূরিভোজ করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্লিপ গ্রান্ডের জন্য ৫০ হাজার, রুটিন মেইনটেন্যান্স বাবদ ৪০ হাজার এবং প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকাসহ ৎএক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাসে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র কেনাকাটার নামে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের জন্য কেনা একটি সাধারণ দেয়াল ঘড়ির দাম ধরা হয়েছে আট হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি নিম্নমানের কাঠ দিয়ে তৈরি একটি টেবিলের দাম আট হাজার এবং একটি চেয়ারের দাম ছয় হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এমন বিল দেখে অবাক হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

গত ২৭ নভেম্বর এ ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। সেই সঙ্গে আট হাজার ৫০০ টাকার দেয়াল ঘড়ি ও আট হাজার টাকার টেবিল দেখতে বিদ্যালয়ে ভিড় জমান স্থানীয়রা। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ওই বিদ্যালয়ে ঘটনা তদন্তে যান। সেই সঙ্গে তদন্তের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ভূরিভোজ করেন তারা।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসায় তদন্ত কর্মকর্তারা ভূরিভোজ করায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। কর্মকর্তাদের ভূরিভোজের কারণে উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, সংবাদ হওয়ার পর রোববার (০১ ডিসেম্বর) আরও চারটি নতুন দেয়াল ঘড়ি বিদ্যালয়ে লাগিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবার টিও-এটিওসহ আরও অনেকেই বিদ্যালয়ে তদন্তে আসেন। তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কর্মকর্তারা যদি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন তাহলে জীবনেও দুর্নীতি কমবে না বরং বাড়বে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ওই বিদ্যালয়ে ঘটনা তদন্তে এসেছেন। পরে আমার বাসায় চা-কফির দাওয়াত দিয়েছি। এটা যে কেউ করবে।

এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একএম সামিউল হক নান্টু বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে পারেন না। এটা চরম অন্যায়। এতে করে দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়া হয়। যেসব কর্মকর্তা এমন কাজ করেছেন তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, ইউএনওর নির্দেশে আমরা ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম তদন্ত করার জন্য। তবে ভূরিভোজের কথা তুলতেই আগ বাড়িয়ে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন এসব তেমন কিছু না।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান শাহ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কেনাকাটায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তা তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে ভূড়িভোজের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।

নাজমুল/এএম/পিআর