মহানগর আ.লীগের সভাপতি হওয়ার রহস্য জানালেন মাসুক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। সম্মেলনের আগের দিন পর্যন্ত এই পদে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ছিলেন তিনি। আর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন তারই ছোট ভাই নগর শাখার সদ্য সাবোক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় মাসুক উদ্দিন আহমদকে। কীভাবে জেলার প্রার্থী থেকে তিনি মহানগরের সভাপতি হয়ে গেলেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

মহানগরের সভাপতির পদ পেয়ে মাসুক উদ্দিন আহমদও অনেকটা বিস্মিত। শনিবার জাগো নিউজকে তিনি জেলার প্রার্থী থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার রহস্য জানালেন।

মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলাম। সারাজীবনই জেলার রাজনীতি করেছি। জকিগঞ্জ-কানাইঘাট সংসদীয় এলাকায় রাজনীতি করেছি। তাই এবার জেলার সভাপতি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সম্মেলন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে এসে হঠাৎ করেই আমাকে মহানগরের সভাপতি পদে মনোনয়ন দাখিল করতে বলেন। দলীয় সভানেত্রীই এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে তারা জানান।

জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, এমন প্রস্তাব পেয়ে আমি প্রথমে বিস্মিত হই। আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলি। তারা সকলেই জানান- নেত্রীই এমন নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আমার ছোট ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করি। সেও নেত্রীর নির্দেশ মেনে মহানগরের সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেয়ার পরামর্শ দেয়। সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে, একেবারে শেষ মুহূর্তে, সবাই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার প্রায় আধঘণ্টা পর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেই। এরপর তো সভাপতি পদে আমার নাম ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, মহানগরের রাজনীতিতে নতুন হলেও এখানকার সকল নেতাকর্মীরাই আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার সারাদিন কয়েক হাজার নেতাকর্মী বাসায় এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যারা আসছেন তাদের অনেককেই আমি চিনি না। ফলে সবাইকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করে নিচ্ছি- ‘আপনারা কেউ মামলার আসামি-টাসামি নেই তো?’

তিনি আরও বলেন, সবাইকে বলেছি- আমার সঙ্গে সেলফি তুলবেন না। তাতে আমাকে আরও বিপদে ফেলবেন। সেলফিবাজির রাজনীতি আমি পছন্দ করি না।

মহানগর আওয়ামী লীগকে আরও সুশৃঙ্খল এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যের কথা জানালেন নতুন এই সভাপতি।

এছাড়া রাজনীতি থেকে দুর্বৃত্তায়ন দূর করারও লক্ষ্যের কথা জানান তিনি। মাসুক উদ্দিন বলেন, আমাদের নেত্রী চাচ্ছেন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে। দল থেকে অপরাধীদের ছাটাই করতে। আমিও সে লক্ষ্যে কাজ করব। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনেরও ভাবমূর্তি ফেরাতে আমি কাজ করব।

প্রসঙ্গত, গত ৫ ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি হন মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অধ্যাপক জাকির হোসেন। জাকির ছিলেন নগর কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক।

এর আগে টানা প্রায় আড়াই দশক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। আর ১০ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। তারা দুজনই এবার বাদ পড়লেন দলের সম্মেলনের মাধ্যমে।

ছামির মাহমুদ/এমবিআর/জেআইএম