১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি করে দিলেন আ.লীগ নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ মিয়ার বিরুদ্ধে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় হত দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরের নভেম্বর মাসের অর্ধশত বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

তিনি কার্ডধারীদের কাছে চাল বিক্রি না করে ভাতগ্রাম বাজারের দোকান থেকে অন্যত্র বিক্রি করেছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র কার্ডধারীদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য মির্জাপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলার নিয়োগ দেন। উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন ওই ইউনিয়নের একজন ডিলার। তিনি ইউনিয়নের ৫৩৯ জন হতদরিদ্র কার্ডধারীর জন্য নভেম্বর মাসে মির্জাপুর খাদ্য গুদাম থেকে ১৬ হাজার ১৭০ কেজি চাল উত্তোলন করে ভাতগ্রাম বাজারের দোকানে মজুত করেন।

ওই চাল ইউনিয়নের ৪,৫,৬,৯ ও ২ নং ওয়ার্ডের আংশিক ৫৩৯ জন হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার কথা। চাল বিক্রির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা এলাকার কার্ডধারীদের জানানোর কথা থাকলেও অনেক সদস্য তা জানাননি। এজন্য অনেক কার্ডধারীও সময় মতো চাল কিনতে পারেননি। চাল না পাওয়া কার্ডধারীরা লোকমুখে চাল বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ডিলারের দোকানে যান। সেখানে তাদের জানানো হয় চাল বিক্রি শেষ হয়েছে।

কার্ডধারীদের অনেকেই চাল না পেয়ে বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু ডিলার আওলাদ হোসেন কার্ডধারীদের কাছে চাল বিক্রি না করে গত সোমবার ফজরের আযানের পর অর্ধশত বস্তা চাল পিকআপযোগে অন্যত্র বিক্রি করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ নিয়ে কার্ডধারী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেকেই ডিলারের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিতরণকৃত চাল ওজনে কম দেয়ারও অভিযোগ করেন। নভেম্বরের চাল না পাওয়া কার্ডধারীরা বলছেন আমাগো গরিবের নামে আসা কার্ডের চাল কে নিল।

বন্দ্যে কাওয়ালজানি গ্রামের ব্রজ বাশী মন্ডলের স্ত্রী বলেন, দুই মাস চাল কিনতে পারলেও গত মাসে চাল কিনতে পারিনি। ওই দুই মাস তাকে ২৮ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

chal

বন্দ্যে কাওয়ালজানি গ্রামের শহিদুর রহমান, বিভাস মন্ডল, চন্দনা রানী, বেলু রানী মন্ডল, ব্রজবাসী বলেন, বাজারে ৩০/৩৫ টাকা কেজি চাল কিনতে হয়। সরকার হতদরিদ্রদের কথা চিন্তা করে কার্ড দিয়েছেন। ওই কার্ড দিয়ে আমরা বছরে পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারি। কিন্তু গত মাসের চাল বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। এলাকার লোকদের কাছে খবর শুনে চাল কিনতে গেলে আমাদের জানায় চাল বিক্রি শেষ।

দিনমজুর আলতাব হোসেন বলেন, পিকআপে চালের বস্তা উঠানো বাবদ প্রতি বস্তায় তাদের ৩ টাকা হিসেবে ২শ টাকা দেয়া হয়েছে। তিনি ১০ বস্তা উঠিয়ে ৩০ টাকা পেয়েছেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী, ভাতগ্রাম বাজারের চা বিক্রেতা সেকান্দার মিয়া প্রায় অর্ধশত লোকের উপস্থিতিতে জানান, ফজরের আযানের পর তিনি দোকানে এসে দেখেন পাশেই আওলাদের চালের দোকান থেকে পিকআপে চালের বস্তা উঠানো হচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখি জাহাঙ্গীর ও আলতাবসহ ৫/৬ জনে চালের বস্তা পিকআপে উঠাচ্ছে। একই কথা বলেন, বাজারের পাহারাদার সুলতান মিয়া।

ভাতগ্রাম বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক লাবু মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন, উয়ার্শী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সুমন জানান, সম্প্রতি বাজারের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার ভোরে ডিলার আওলাদ হোসেন চালের বস্তা পিকআপযোগে অন্যত্র নিয়েছেন এ বিষয়টি পাহারাদার সুলতান ও চা বিক্রেতা সেকান্দার তাদের জানিয়েছেন।

উয়ার্শী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিলার মো. আওলাদ হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত কয়েকজন কার্ডধারী চাল নিতে না আসায় ওই চাল অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর ভোরে তার দোকান থেকে পিকআপযোগে চালের বস্তা অন্যত্র নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, এলাকায় আমার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আগামীতে আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী। এজন্য একটি পক্ষ আমার ক্ষতি করতে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে খোঁজ নিয়ে দোষী প্রমাণিত হলে ডিলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।

এস এম এরশাদ/এমএএস/জেআইএম