লেপ-তোশকের চাহিদা বেড়েছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে দেশজুড়ে। ফলে লেপ-তোশকের কারখানা ও দোকানগুলোতে বেড়েছে চাহিদা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগররা। তবে, কাজ বাড়লেও বাড়েনি তাদের মজুরি। যদিও মালিক পক্ষ বলছেন সমিতির নির্ধারিত রেট অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি দেয়া হচ্ছে। যা তিন বছর পর পর পরিবর্তন হয়।

সারাদেশের মতো রাজবাড়ীর প্রতিটি উপজেলার লেপ-তোষকের কারখানা ও দোকানগুলোতে চলছে এখন শীত বরণের প্রস্তুতি। সময়ের পরিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে নিত্য-নতুন অনেক ধরনের শীত বস্ত্র বাজারে থাকলেও লেপ ব্যবহারে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে সবার মধ্যেই। লেপের পাশাপাশি উষ্ণতা বাড়াতে বিছানায় তোশকও দেন অনেকে। সে কারণে তোশক তৈরির জন্যও ভিড় রয়েছে দোকান ও কারখানায়।

রাজবাড়ী শহরের বাজার এলাকায় ২০টিরও বেশি লেপ-তোষকের কারখানা ও দোকান রয়েছে। যেখানে পুরাতন লেপ-তোষকের তুলা মেশিনের সাহায্যে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হয়। নতুন তুলা মিশিয়ে বা সম্পূর্ন নতুন করে এগুলো তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ চলছে প্রতিটি কারখানা ও দোকানে। শীত মৌসুমে প্রতিদিন একটি কারখানায় ১৫ থেকে ২০টি করে লেপ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান কারিগররা।

Rajbari-2

দেশে লেপ ও তোষকে বহু ধরনের তুলা ব্যবহার করা হয়। যার দাম প্রতি কেজি ৩৫টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০টাকা পর্যন্ত।

জানা গেছে, লেপের জন্য যেসব তুলা ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে কার্পাস তুলার কেজি ১০০ টাকা, গুটি কার্পাস তুলা ২৫০ টাকা, মিল কার্পাস তুলা ১২০ টাকা, ফোম তুলা ১৫০ টাকা, ফাইবার তুলা ২৫০টাকা, শিমুল তুলা ৩৫০ টাকা কেজি এবং তোশকের জন্য ব্লেজার (গার্মেন্টস) তুলা ৪০ ও উল ৩৫ টাকা।

কারিগররা বলেন, শীত পড়তে থাকায় এখন কাজ বেড়েছে। একটি লেপে ২০০ টাকা মুজরি নিয়ে তারা পান ১৪৫ টাকা, বাকি টাকা মালিকরা নেন। বর্তমানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের যে দাম, তাতে এ মজুরিতে তাদের পোষায় না। মজুরি বাড়ালে তাদের জন্য ভাল হতো। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কাজের চাপ বাড়বে মনে করছেন।

Rajbari-2

ফুলসজ্জা বিছানালয়ের মালিক তুহিন মন্ডলসহ কয়েকজন দোকান মালিক বলেন, শীতের প্রভাবে কাজ বেড়েছে, তবে গতবছরের মতো এখনেও শুরু হয়নি। আশা করছেন শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপও বাড়বে। তবে লেপ ও তোশকের অর্ডার ভালই পাচ্ছেন। কারিগররা এখন আর বসে নাই, সারাক্ষণ কাজ করছেন।

তিনি বলেন, তাদের সমিতি থেকে যে মজুরি নির্ধারিত আছে, সে অনুযায়ী তারা মজুরি পাচ্ছেন। একটি লেপের তুলা মেশিনে প্রস্তুত করতে হলে মালিক মজুরি থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা মেশিন ভাড়া হিসেবে কেটে রাখে। কারণ মেশিন তো কারিগরদের না। সবার মতামতের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর কারিগরদের মজুরি বাড়ানো হয় এবং প্রতিটি দোকানে তার চার্টও আছে।

রুবেলুর রহমান/এমএমজেড/পিআর