বঁটি দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটা সেই আ.লীগ নেতার আত্মসমর্পণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বঁটি দিয়ে এক গৃহবধূর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার অন্য চার আসামি পলাতক।

সিরাজগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক ফজলুল হক ও উল্লাপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলার প্রধান আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গত রোববার (৮ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উল্লাপাড়া থানাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওইদিন ইসরাত হাসান নামে এক আইনজীবী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনার পর গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুজ্জামান ও থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ ওই গৃহবধূর বাড়ি যান এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। তাদের নিরাপত্তায় রোববার রাত থেকে বাড়িতে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

ওই নারীর অভিযোগ, গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি তার এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের খোঁজে বের হন। পথিমধ্যে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ির পাশে উধুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ ও তার চার সহযোগী ওই নারীর পথরোধ করেন। এ সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তারা। এতে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে তাদের সামনে তাকে বিবস্ত্র করে মারপিট করা হয়।

পরে কয়েকশ লোকের সামনে বঁটি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ, গজাইল গ্রামের মোজাহারের ছেলে মুনসুর (৩৮), বাহের প্রামাণিকের ছেলে আবদুস সালাম (৪৫), নাসির উদ্দিন (৪০) ও শহিদুল ইসলামের (৩২) নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/জেআইএম