প্রেমিকার জন্য ইলেক্ট্রিশিয়ানকে পেটালেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৬:২৭ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
আহত ইলেকট্রিশিয়ান মিলন

পরকীয়া প্রেমিকার বাসায় কলিংবেল লাগাতে দেরি করায় এক ইলেক্ট্রিশিয়ানকে বেদম মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি হুমায়ুন সিকদারের বিরুদ্ধে। তার কিল-ঘুষিতে ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. মিলনের কপাল ও মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। মিলনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে হুমায়ুন সিকদারের বিচার চেয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। নেতাদের কাছে বিষয়টি জানানোর কারণে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে হুমায়ুন ও তার পরকীয়া প্রেমিকা চায়না বেগম মিলনকে দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

মিলন জানান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন সিকদারের সঙ্গে নগরীর খান সড়কের কাজী স্টোর্সের সামনে আজ সকালে দেখা হয়। এ সময় নেতাদের কাছে নালিশ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন হুমায়ুন। একপর্যায়ে তিনি আঙুল উঁচিয়ে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি হুমায়ুন কাউরে ধরলে কিন্তু ছাড়ি না’। এখানেই শেষ নয়, দুপুরে পুলিশ দিয়ে হেনেস্তা করার চেষ্টা করে হুমায়ুন সিকদার। পরে পুরো ঘটনা শুনে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. নুরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে তার রক্ষা হয়। এ ঘটনার পর মো. মিলন ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন।

মো. মিলন নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খান সড়কের বাসিন্দা। খান সড়কের ডিস ব্যবসায়ী আসলাম খানের ডিস লাইনের কাজ করেন। পাশাপাশি ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন মিলন।

স্থানীয়রা জানান, খান সড়কের চায়না বেগমের সঙ্গে হুমায়ুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক। এর আগেও তিনি একাধিকবার চায়না বেগমকে নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষা পান আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন সিকদার।

ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলন অভিযোগ করেন, গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে চায়না বেগম তার বাসায় কলিংবেল লাগিয়ে দিতে বলেন। দিনভর ডিস লাইনের কাজে ব্যস্ত থাকায় বিকেলে ওই বাসায় কলিংবেল লাগাতে যান তিনি। এ সময় দেরি হওয়ায় চায়না বেগম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে চায়না তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন এবং মুঠোফোনে আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন সিকদারকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হুমায়ুন সিকদার ওই বাসায় গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

বিষয়টি মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা জামান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নিরব হোসেন টুটুলকে জানান মিলন। নিরব হোসেন টুটুল এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হন হুমায়ুন সিকাদার ও চায়না বেগম। নেতাদের কাছে নালিশ করার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে সকালে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

বরিশাল মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন সিকদার বলেন, খান সড়কে এক বাসায় কলিংবেল লাগাতে ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলনকে বারবার অনুরোধ করা হয়। তবে কলিংবেল না লাগিয়ে মিলন টালবাহানা করতে থাকে। এরপর সোমবার বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে মিলন ঝামেলা করে। দুর্ব্যবহার করে। ওই ঘটনায় মিলনকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এ সময় পড়ে গিয়ে তার একটু ছাল উঠেছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। ওই পক্ষটি মিলনকে দিয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে রটাচ্ছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলনের সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি শুনেছি। মিলন লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফ আমীন/আরএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]