আইসিজেতে শুনানি : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজারো মসজিদে দোয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দেয়ার পর তাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় জীবন ধারণের সব পথ্য সরবরাহের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অভাবনীয় কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বাঙ্গনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি করা গেছে। নানা টালবাহানায় প্রত্যাবাসন এড়িয়ে যাওয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা হয়েছে।

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গত নভেম্বরে মামলাটি করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজেতে সেই মামলায় মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) শুরু হয়েছে শুনানি। চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাদী-বিবাদী গাম্বিয়া-মিয়ানমার উভয়ে মামলা মোকাবিলায় আইনজীবী নিয়োগ করেছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও পৌঁছেছে সেখানে। শুনানি পর্যবেক্ষণে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল দেশটিতে গেছে। ফলে বিশ্ববাসীর নজর এখন আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানির ওপর।

খবরটি পৌঁছেছে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাস উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পেও। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও মিয়ানমারের নানা টালবাহানা তাদের সন্দিহান করে তোলে। তাই রোহিঙ্গাদের আশা এবার আন্তর্জাতিক আদালত থেকে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ সমাধানে একটি যৌক্তিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে। সুসংবাদই যেন আসে সেই প্রত্যাশায় ধর্মভীরু রোহিঙ্গারা তাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করা গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মঙ্গল কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করেছে। মোনাজাতে মানবিক আশ্রয় এবং জীবন ধারণের উপকরণ সরবরাহ করা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও নত মস্তকে কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এশার নামাজের পর থেকে প্রতি ওয়াক্তের নামাজ শেষে সমবেতভাবে রোহিঙ্গারা ৩৪ ক্যাম্পের প্রায় ২ হাজার মসজিদে এ মোনাজাত করেন বলে জানিয়েছেন কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পের ‘ডাবল-ও’ জোনের মাঝি মৌলভী ছাবের আহমদ ও সালামত খান।

তারা বলেন, আমরা নিপীড়িত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি। সে সময় বাংলাদেশ সরকার মানবিক আশ্রয় না দিলে অগণিত আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে অসময়ে লাশ হতে হতো। বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে সম্মানজনকভাবে ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা গণমাধ্যম ও নেট দুনিয়ার মাধ্যমে এসব তথ্য পাই। কিন্তু মিয়ানমার আমাদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করে আসছে।

বাংলাদেশের প্রচেষ্টা এগুতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে গাম্বিয়া। গত ১১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রাখাইনে গণহত্যা, গণধর্ষণসহ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে বলে জেনেছি। সেই মামলায় মঙ্গলবার শুনানি হবে জেনেই আমাদের শিক্ষিত মুরুব্বিদের পরামর্শে সব মসজিদে মোনাজাত করা হয়েছে।

সাইফুর রহমান নামে এক ব্যক্তির টুইটে দেখা যায়, কক্সবাজারের ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ‘গাম্বিয়া, গাম্বিয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের মসজিদ এলাকায় কুয়াশার মাঝে এ স্লোগান দেয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল মনসুর বলেন, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে গাম্বিয়ায় চলমান মামলার কারণে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে ক্যাম্প এলাকায়। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প এলাকায় সদা তৎপর।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানির বিষয়টি মাথায় রেখে সীমান্তে মিয়ানমার অংশে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেছে সীমান্তে বসবাসকারীরা।

বিষয়টি জানা নেই তবে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আলি হায়দার আজাদ আহমেদ।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম