এলাকায় সবার প্রিয় ছিলেন ফারমিন মৌলি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ফারমিন মৌলি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। সব সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করার চেষ্টা করতেন। বাবা মোশাররফ হোসেনের হাত ধরেই আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠেন তিনি।

ছোটবেলা থেকে ছাত্রলীগের হাত ধরে প্রথমে নিজ উপজেলা নাজিরপুর এরপর জেলা শহর পিরোজপুর পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। এলাকায় বেশ সুনাম ছিল তার। সবার কাছে প্রিয় ছিলেন তিনি। সব কিছু ফেলে সেই প্রিয় মানুষটি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন গতকাল মঙ্গলবার।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়ে নাজিরপুরের বাসায় ফিরছিলেন ফারমিন মৌলি। রাত ৮টার দিকে ঢাকা থেকে বাসে নাজিরপুর আসার পথে টুঙ্গিপাড়া নামেন ফারমিন মৌলি। পরে তিনি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে নাজিরপুর ফিরছিলেন।

পথে চিতলমারীর কুইনা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।

baba1

মৌলির মা মিসেস মোশাররফ বলেন, এলাকায় সবার কাছে মিষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আমার মেয়ে। কারও বিপদ দেখলেই নারী হওয়া সত্ত্বেও সবার আগে এগিয়ে যেত মৌলি।

এদিকে মৌলির মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ তার নিজ গ্রামের মানুষ।

ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান মিঠু জানান, নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে কাজ শেষে আমি ও আমার জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শুভ্রজিৎ হালদার বাবু প্রাইভেট কারে পিরোজপুরে ফিরছিলাম, এসময় মাসুম নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মীও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। প্রাইভেটকারটি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া চরপাড়া এলাকায় পৌঁছলে ঈগলু পরিবহনের একটি কাভার্ডভ্যান প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক ফরিদুল ইসলাম নিহত ও আমরা তিনজন গুরুতর আহত হই। তখন স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুভ্রজিৎ হালদার বাবুকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।

দীর্ঘ দুই বছর এক মাস অসুস্থ থাকার পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আজ বছর শেষে প্রাণঘাতি সড়ক দুর্ঘটনায় একই কমিটির সহযোগী কর্মী মৌলিকে হারালাম।

পিরোজপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার জানান, মৌলি অত্যন্ত ভদ্র ও ভালো মেয়ে ছিল। বাড়ি এলেই আমাদের খোঁজখরব নিত। আজ মৌলি নেই বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে শোকের ছায়া।

এমএএস/এমকেএইচ