সরকারের বাহাদুরী প্রকৃতি সংরক্ষণ করে দেশ পরিচালনায়, ধ্বংস করে নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সরকারের বাহাদুরী প্রকৃতি সংরক্ষণ করে দেশ পরিচালনায়, ধ্বংস করে নয়। আজ জাফলং, সুন্দরবন, কক্সবাজার প্রত্যেকটি স্থানে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিপদের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রেখে করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করতে হবে। উন্নয়নতো দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য দেশ নয়, এ কথাটি দেশের নীতি নির্ধারকদের উপলব্ধি করতে হবে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখার উদ্যোগে ‘জাফলং ও শ্রীপুরে পাথর উত্তোলনের জন্য খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)’র গেজেট প্রকাশের দুরভিসন্ধির প্রতিবাদে ও ইসিএভুক্ত এলাকার তথ্য গোপন করে পাথর উত্তোলন নিয়ে চলা রিট বাণিজ্যের নিন্দায় নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা-সিলেট শাখার সহ-সভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্টার ড. জামিল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মসূচির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ নাগরিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাপা-সিলেট শাখার সহ-সভাপতি ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাপার আজীবন সদস্য ড. জহিরুল হক শাকিল, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কৃষক সমিতির নেতা মানবেন্দ্র দেব, উদীচী সিলেট শাখার সভাপতি এনায়েত হোসেন মানিক, ফকির মেলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফকির সোহেল, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইন্দ্রনী সেন শম্পা, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানা ঝুমা, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি ও এনভায়রোমেন্ট বিভাগের সহকারী অধাপক নুসরাত জাহান পলি, বাপা-সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক ছামির মাহমুদ ও ডা. তায়েফ আহমেদ চৌধুরী, গ্রীন প্ল্যান সিলেটের চেয়ারম্যান মোস্তাক চৌধুরী প্রমুখ।

প্রতিবাদী সমাবেশে সুলতানা কামাল আরও বলেন, জাফলং এখন মুমূর্ষু প্রায়। কিছু অর্থলোলুপ মানুষ, যারা নিজের স্বার্থে দেশের সমস্ত কিছু নষ্ট করে দিতে পারে। তাদের কারণেই জাফলংসহ সিলেট অঞ্চলের প্রকৃতি-পরিবেশ বিপন্ন। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য পরিবেশ ধ্বংসকারী রামপাল প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু বর্ষ আমরাসহ বিশ্বের সব মুক্তিকামী মানুষ পালন করবে। বঙ্গবন্ধু বর্ষ উদযাপনের কর্মসূচিতে অবশ্যই যেন পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষা করে উন্নয়ন কর্মসূচি চালানোর কথা থাকে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, শুধু জাফলং নয়, সিলেটের ভোলাগঞ্জ, লোভাছড়া ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী এলাকাতেও পাথর উত্তোলনের নামে প্রকৃতি ধ্বংস চলছে। আগামী দিন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীদের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আরো সোচ্চার হতে হবে।

ছামির মাহমুদ/এমএএস/পিআর