কিশোর টিটোর জীবনের বিনিময়ে হানাদার মুক্ত হয় সাভার

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আজ ১৪ ডিসেম্বর সাভার হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সারাদেশের মত মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছিলেন এখানকার প্রায় আড়াইশ নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। এদিন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটোর আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে হানাদার মুক্ত হয় সাভার।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ভারতের অন্তিম নগর থেকে ২নং সেক্টরের অধীনে ৫২ জন গেরিলা যোদ্ধা আশুলিয়ার গাজীবাড়ী এলাকার নেদু খাঁর বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করে। এ সময় দেড় মাস প্রশিক্ষণ দেয়া হয় কয়েকশ নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে। পরে মুক্তিযোদ্ধারা আশুলিয়ার তৈয়বপুর ক্যাম্পে বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে আরও একটি ক্যাম্প তৈরি করেন।

মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ১৪ ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গ ও টাঙ্গাইল থেকে পাক বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে সাভার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ১৪ ডিসেম্বর সকালে আশুলিয়ার ঘোষবাগে পাক বাহিনীর একটি সশস্ত্র দল অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে ২৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা ঘোষবাগ এলাকার শ্রীগঙ্গা কাঁঠাল বাগানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়।

র্দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চলার পর পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি যোদ্ধারের দাপটে পিছু হটতে শুরু করলে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় গোলাম দস্তগীর টিটো সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে গুলি করতে করতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ কয়েকটি বুলেটের আঘাত থামিয়ে দেয় কিশোর টিটোর প্রাণ। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে টিটোর সাহসী দেহ। টিটুর জীবনের বিনিময়ে শত্রুমুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া। পরবর্তীতে শহীদ টিটোকে সমাহিত করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি গেট এলাকায়। তার মহান এই আত্মত্যাগের কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সাভারবাসী।

দিবসটিকে স্মরণ করে প্রতি বছরই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটোর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি শহীদ টিটোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আল-মামুন/আরএআর/এমকেএইচ