গতি পাচ্ছে না ডিজিটাল রাজশাহী

ফেরদৌস সিদ্দিকী ফেরদৌস সিদ্দিকী , নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল রাজশাহীর। জেলার ৯টি সরকারি দফতরের ওয়েবসাইট অত্যন্ত দুর্বল ও অসম্পূর্ণ। ৪৩টি দফতরের মধ্যে ই-নথি চালু রয়েছে মাত্র ১৩টিতে। ই-নামজারিতেও ততটা অগ্রগতি নেই। দক্ষ জনবল না থাকায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের সুফল পাচ্ছে না সুবিধাভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৩০টি সিটি ডিজিটাল সেন্টারও অচল। একমাত্র পুঠিয়া পৌরসভা বাদে জেলার ১৩টি পৌর ও ৭২টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বেশ ভালোভাবেই চলছে। জেলা আইসিটি কমিটির গত নভেম্বর মাসের সভায় এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ১৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক।

গত অক্টোবর মাসে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) কার্যালয়ে মোট ২ হাজার ৭৪৫টি ই-নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। এছাড়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমগুলো কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় জানানো হয়, যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে পারছেন না। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর ৩০ ওয়ার্ডে সিটি ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। কিন্তু তার অথিকাংশই চলমান নেই বলে তথ্য দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে ভালোভাবেই চলছে ১৪টি পৌর এবং ৭২টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার।

সভায় জানানো হয়, গত অক্টোবরে ৩ হাজার ৩০২ জনকে সেবা দিয়ে পৌর ডিজিটাল সেন্টার আয় করেছে এক লাখ ৬৩ হাজার ২২৬ টাকা। একই মাসে ৮২ হাজার ৪৫৪ জনকে সেবা দিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার আয় করেছে ১৭ লাখ ১৮ হাজার ১৮৮ টাকা।

সূত্র জানায়, বেশকিছু পৌর ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা নেই। সেগুলো চালাচ্ছেন পৌর কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, উন্নয়নের মূল হাতিয়ার আইসিটি। এ ক্ষেত্রে রাজশাহীর সকল সরকারি দফতর আইসিটি কার্যক্রমে পিছিয়ে। দফতরগুলোতে আইসিটি কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।

দুর্বল ওয়েবেসাইট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেকর্ডে আসলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়। তাদের ওয়েবসাইট আছে কিন্তু যতটুকু প্রত্যাশা করা যাচ্ছে ততটুকু নেই। ওয়েবসাইটগুলো জাতীয়ভাবে ডিজাইন করা। এগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ ট্যাব পূরণ করা। বাকিগুলোও পূরণের জন্য আমরা বলছি। আপডেট প্রক্রিয়া চলমান।

ই-নথি কার্যক্রম বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কয়েকটি দফতর এনিয়ে অনেক ভালো কাজ করছে। তবে সবগুলো দফতর ভালো কাজ করছে এই মুহূর্তে সেটি বলা যাবে না। অনেকেই অনেক ধরনের অজুহাত দিচ্ছেন, আমরা সেটি মানছি না। অচিরেই আমাদের পেপারলেস কার্যক্রমে চলে যেতে হবে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সিটি ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম না থাকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, এটি শহর এলাকা। এখানে হাত বাড়ালেই তথ্য প্রযুক্তি সেবা পাওয়া যায়। এ কারণেই হয়তো এখানে সিটি ডিজিটাল সেন্টার সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে যেহেতু সরকারি নির্দেশনা আছে, সেহেতু বিষয়টি নিয়ে আমরা নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। তারা যেন সিটি ডিজিটাল সেন্টারগুলো সচল করে।

আরএআর/পিআর