টেনিস কমপ্লেক্স থেকে ‘রাজাকারের’ নাম অপসারণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

রাজশাহীর ‘জাফর ইমাম আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্স’ থেকে জাফর ইমামের নাম বাদ দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা।

ক্রীড়া সংগঠক জাফর ইমামকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তার নাম বাদ দেয়ার দাবি জানানো হয়। ‘রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মুক্তিযোদ্ধা’ ব্যানারে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাফর ইমাম রাজশাহীতে বুদ্ধিজীবীসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষদের তালিকা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে সখ্যতা ছিল তার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে জিপে করে প্রকাশ্যে রাজশাহী শহর দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। রাজশাহী সার্কিট হাউজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেও ছিল তার যাতায়াত।

তারা বলেন, জাফর ইমামদের তালিকা ধরেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহীতে দীর্ঘ নয় মাস সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে। এছাড়া জাফর ইমাম রাজশাহীতে এনএসএফর মূল সংগঠক হিসেবে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের অনেক নেতাকর্মীদের ওপর নানা সময়ে হামলার মূল কুশীলবও ছিলেন।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা আরও বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্স থেকে কুখ্যাত রাজাকার জাফর ইমামের নাম অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও তার নাম টেনিস কমপ্লেক্স থেকে অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানাই।

সমাবেশে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার শফিকুর রহমান রাজা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ আলী কামাল ও রবিউল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুন নেসা তালুকদার ও অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা প্রমুখ।

স্বাধীনতার অনেক আগ থেকেই রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত। ২০০৪ সালে মারা যান ক্রীড়া সংগঠক জাফর ইমাম। এরপর ২০০৫ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তার নামে রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সটির নামকরণ হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে ‘নামকরণ’ বাতিল করে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বা বুদ্ধিজীবীর নামে কমপ্লেক্সটি নামকরণের দাবিতে আন্দোলন নামেন মুক্তিযোদ্ধারা।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/পিআর