ভেঙে দেয়া হলো মেয়রের মামার নির্মাণাধীন ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজার সংলগ্ন বিউটি রোডের জমি দখল করে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ করছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মামা কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল। এরই মধ্যে ভবনটির একতলা নির্মাণ করা হয়েছে। অবশেষে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সেখানে অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের অবৈধ ওই অংশ ভেঙে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিউটি রোডে নির্মাণাধীন এই ভবনটি সাবেক বিউটি সিনেমা হল মালিক জুলু চৌধুরীর। নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মামা কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল ওই জমি কিনে যৌথভাবে ভবন নির্মাণ করছিলেন। ভবনটির নাম দেয়া হয়েছিল বিউটি সুপার মার্কেট।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রায় ২৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ সরকারি রাস্তার জমি। স্থানীয় জনগণ অবৈধভাবে ওই ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জনস্বার্থে ভবন মালিককে সিটি কর্পোরেশন থেকে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দিলো।

barishal-city-corporation1

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল জানান, সিটি কর্পোরেশনের সরকারি রাস্তাার জমি দখল করে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ভবন মালিককে সরকারি ওই জমি ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবন মালিক ওই নোটিশের তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দেয়া হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল নামে ভবনটি নির্মাণের জন্য প্ল্যান নেয়া হয়েছিল। তবে প্ল্যান না মেনে বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল। এ কারণে ভবনটির অবৈধ ওই অংশ ভেঙে দেয়া হয়েছে।

নির্মাণাধীন বিউটি সুপার মার্কেটের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. কালাম মল্লিক দাবি করেন, ভবন উচ্ছেদ বা ভেঙে ফেলার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ভবন মালিককে কোনো নোটিশ দেয়নি । নোটিশ পেলে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।

সাইফ আমীন/আরএআর/এমএস