তিস্তা নিয়ে দেশের মানুষ আর কতকাল অপেক্ষা করবে, প্রশ্ন মেননের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০
রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহসহ ২১ দফা দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন রাশেদ খান মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে দেশের মানুষ কতকাল অপেক্ষা করবে। পশ্চিমবঙ্গসহ অন্য সব বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করলেও তিস্তার বেলায় কেন নয়? ভারতের নাগরিকত্ব বিল বিষয়ে সব দল ও মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারলে তিস্তা চুক্তি সই প্রশ্নে কেন পশ্চিমবঙ্গের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। কাজেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই তিস্তা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহসহ ২১ দফা দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনার প্রাক্কালে এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, যদি মুজিববর্ষে সত্যিকারভাবে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাতে হয় তবে বৈষম্য অবসানে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেটাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে ধনী-গরিব ও মানুষে-মানুষে বৈষম্য কমাতে হবে। রংপুর বিভাগের দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প কল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তীর-ধনুক, বল্লম নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করলেও রংপুরের মানুষ উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। বৈষম্য কমিয়ে রংপুর বিভাগের উন্নয়নের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, পাকিস্তান আমলের আন্দোলন এবং আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক বৈষম্য এবং ধনী-গরিব বৈষম্য কমানো। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি উন্নয়নের সঙ্গে সমান্তরালে বাড়ছে বৈষম্য। ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। অঞ্চলভেদেও বৈষম্য বাড়ছে। বলা হচ্ছে দারিদ্র্যের হার গড় ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের দারিদ্র্যের হার ৪৬.৬৬। কুড়িগ্রাম জেলায় এই হার ৭০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রংপুর জেলার সভাপতি পলিটব্যুরো সদস্য নজরুল ইসলাম হক্কানীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির পলিটবুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, আমিনুল ইসলাম গোলাপ ও কেন্দ্রীয় সদস্য মোছাদ্দেক হোসেন লাবু প্রমুখ।

জিতু কবীর/এএম/এমএস