ছোট নৌকায় পদ্মা পাড়ি দিতে গিয়ে নববধূসহ ৯ জন লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২০

মাছ ধরার ছোট নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দিতে গিয়ে রাজশাহীতে সলিল সমাধি হয়েছে নববধূসহ ৯ জনের। টানা ৬২ ঘণ্টার অভিযানে একে একে সবকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে উদ্ধার অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক।

তিনি বলেন, মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকার ধারণক্ষমতা ৮ থেকে ১০ জন। কিন্তু ওই দিন ২০-২২ জন যাত্রী পদ্মা পাড়ি দিচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাছাড়া হঠাৎ তীব্র স্রোত এবং বিপরীতমুখী ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়েছিল নৌকা দুটি। এ কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুর্ঘটনার দিনই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, বৌভাত অনুষ্ঠান শেষে দুটি নৌকায় শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছিলেন বর-কনেসহ ৪২ জন। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রীবোঝাই নৌকা দুটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। নগর পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান সার্বিক সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি ও স্থানীয় জেলেরা।

তাৎক্ষণিকভাবে বর আসাদুজ্জামান রুমনসহ ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় এক শিশুর মরদেহ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে নেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখনও হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কনের বাবা মো. শাহিন (৪৮)। তবে
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন চারজন।

raj

নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ছিলেন নববধূসহ আটজন। তাদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলের সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ , ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিজিবি। পরে বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরিদল অভিযানে যুক্ত হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র খুলে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করা হয়।

সর্বশেষ সোমবার সকাল ৬টার দিকে নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয় নগরীর কাটাখালী থানাধীন পদ্মার শাহাপুরঘাট থেকে।

জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের প্রত্যেককের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারের পবা উপজেলার চরখিদিরপুর এলাকার ইনসার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রুমনের সঙ্গে একই উপজেলার ডাঙেরহাট এলাকার শাহীন আলীর মেয়ে সুইটি খাতুন পূর্ণিমার বিয়ে হয়। শুক্রবার (৬ মার্চ) বরের বাড়ি থেকে দুটি নৌকায় বর-কনেকে নিয়ে আসছিল কনেপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৌকা দুটি রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর ডিসির বাংলো এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/জেআইএম