লিবিয়ায় নিহতদের মধ্যে একজন যশোরের রাকিব, বাড়িতে কান্নার রোল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৩:৩০ এএম, ৩০ মে ২০২০

লিবিয়ায় পাচারকারীদের গুলিতে নিহতদের তালিকায় নাম থাকা রাকিবের বাড়িতে কান্নার রোল উঠেছে।নিহত রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২০) যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের খাটবাড়িয়া গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের ছেলে।

রাকিব চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় পাড়ি জমান। সম্প্রতি লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে নিহত রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিহত হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরেছেন। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই ফিরোজ হোসেন।

সম্পত্তি বিক্রি ও জমানো টাকা খরচ করে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এখন সন্তান ও সম্পত্তি দুই-ই হারিয়ে রাকিবের পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রাকিবুলের চাচাতো ভাই লিবিয়া প্রবাসী। ওই ভাই লিবিয়ায় থাকা এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। সাড়ে তিন মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় পাঠান পরিবারের লোকজন। চার-ভাইবোনের মধ্যে রাকিবুল সবার ছোট। যে কারণে তার মৃত্যুর খবরে মা-বাবা, ভাই-বোন শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন। তাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

চাচাতো ভাই ফিরোজ হোসেন জানান, দালালের মাধ্যমে রাকিবুল পাড়ি দেন লিবিয়ায়। কিন্তু দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হন। এরই মধ্যে খবর এলো দালাল চক্র রাকিবুলকে গুলি করে হত্যা করেছে।

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে বৃহস্পতিবার ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে খুন করা হয়। তাদেরই একজন রাকিবুল। ভালো কাজের জন্য দালালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু শুরু থেকেই দালালেরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে তাকে আটকে রেখে ১৭ মে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই টাকা দুবাই থেকে তারা নিতে চায়। ভাইয়ের মুক্তির জন্য ওই টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন তারা। আগামী ১ জুন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারলেন না। তার চাচাতো ভাই রাতে লিবিয়া থেকে ফোন করে জানিয়েছেন, যে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে রাকিবুলও রয়েছে। আমরা এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। লাশ কবে দেশে আসবে, তাও জানি না।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছারউদ্দীন বলেন, লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আমার শংকরপুর ইউনিয়নের খাটবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুল নামে এক যুবকও রয়েছে।

মিলন রহমান/এমএএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]