দলবেঁধে জঙ্গলে ঢুকে নয়টি বন্যপ্রাণিকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৩:৫০ এএম, ৩০ মে ২০২০

সিলেটের জৈন্তাপুরে দুটি বড় বাঘডাশসহ নয়টি বন্যপ্রাণিকে স্থানীয় এলাকাবাসী পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে জানিয়েছে সিলেটের বন বিভাগ। নিহত প্রাণির মধ্যে ৬টি শেয়াল, একটি বেজি, দুটি বড় বাঘডাশ রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামে বন্যপ্রাণিগুলোর প্রতি এমন নির্মম ঘটনা ঘটেছে। একসাথে ৯টি বন্যপ্রাণি পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা নজরে এসেছে বনবিভাগেরও। এ ঘটনার তদন্তে নেমেছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, বালিপাড়া গ্রামের পাশে একটি জঙ্গল রয়েছে। কয়েকদিনের ঢলে ওই এলাকায় পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় জঙ্গলের শেয়াল, বাঘডাশ ও বেজিগুলো লোকালয়ে চলে আসে। মাঝেমধ্যে হাঁস-মোরগ ধরে নিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার স্থানীয় জন যুবক ও তরুণ সমবেত হয়ে গ্রামের পাশের জঙ্গলে হানা দেন। তারা বল্লম ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে শেয়াল, বেজি, বাগডাশসহ এ ৯টি প্রাণিকে হত্যা করেন।

ওই গ্রামের যুবক ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক কে এইচ জাকির শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এসব প্রাণির কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, হত্যা করা প্রাণিগুলো মাটিতে লাইনধরে ফেলে রাখা হয়েছে। মৃত প্রাণিগুলোর পাশে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ২৫/৩০ জন তরুণ ও শিশু।

এ বিষয়ে বনবিভাগের জৈন্তাপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন বলেন, আমি সন্ধ্যার দিকে ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। এর পরপরই স্থানীয় ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। শনিবার সকালে আমরাও সেখানে যাব।

তিনি বলেন, বন্যার খাবার সঙ্কট দেখা দেওয়ায় কিছু শেয়াল ও বাঘডাশ এখন লোকালয়ে আসতে পারে। তবে তাদের হত্যা করা খুবই অন্যায় কাজ হয়েছে। কে এইচ জাকির ছাড়া এ ঘটনায় সম্পৃক্ত আর কাউকে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, এ করোনাভাইরাসের সময়ে মানুষের মতো প্রাণিরাও সঙ্কটে আছে। এখন প্রাণিদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। অথচ আমরা পিটিয়ে তাদের হত্যা করছি। এটা জঘন্য অপরাধ। যারা এর সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ব্যাপারে বনবিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা শনিবার ঘটনাস্থলে যাবেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হবে।

ছামির মাহমুদ/এমএএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]