দেশে একই পরিবারের তিনজনসহ ১৩ জনের মৃত্যু

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০২ জুন ২০২০

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একই পরিবারের তিনজন, ভোলার মনপুরা ও বোরহানউদ্দিনে দুই জেলে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক কলেজছাত্র, রংপুরের পীরগাছায় বাবা-ছেলে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ইজিবাইক চালক, শেরপুরে নকলায় শিশু ও বৃদ্ধা, লক্ষ্মীপুর সদরে মাদরাসাছাত্র ও কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সারাদিন বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত জাগো নিউজের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে-

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সরিষাকোল কবরস্থান এলাকায় সরকার ট্রাভেলস ও অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী ও শিশু কন্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (২ জুন) শাহজাদপুর উপজেলার সরিষাকোল কবরস্থান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বাদলবাড়ী গ্রামের আন্না রাণী সূত্রধর (৩৫), তার স্বামী কাঞ্ছু সূত্রধর (৪০) ও তাদের শিশুকন্যা সিমা সূত্রধর (৭)। এ ঘটনায় নিহত কাঞ্ছু সূত্রধরের ছেলে শুভ সূত্রধর (১৬) ও অটো-ভ্যানচালক আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কাঞ্ছু সূত্রধর তার স্ত্রী আন্না রাণী সূত্রধর তাদের পুত্র শুভ ও কন্যা সিমাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ির গোপালের বাড়িতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যায়।

অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে বালসাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি অটো-ভ্যানযোগে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক দিয়ে তাদের বাড়ি শাহজাদপুর ফিরছিলেন। অটোভ্যানটি উপজেলার সরিষাকোল কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক পাবনা থেকে আসা ঢাকাগামী সরকার ট্রাভেলস নামের দূরপাল্লার একটি যাত্রীবাহী বাস সজোরে ওই অটো-ভ্যানে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই আন্না রাণী সূত্রধর নিহত হন। এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় এলাকাবাসী কাঞ্ছু সূত্রধর (৪০), সিমা সূত্রধর (৭) ও শুভ সূত্রধরকে (১৬) উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় পিপিডি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের শারিরীক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক কাঞ্ছু সূত্রধর ও তার শিশুকন্যা সিমা সূত্রধরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শুভ সূত্রধর ও ভ্যানচালককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিহত ৩ জনের মরদেহ তাদের নিজ বাড়ি উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বাদলবাড়ী গ্রামে নিয়ে গেলে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, জেলার মনপুরা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বজ্রপাতে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন, মো. মামুন (১৮) ও রাফসান (১৮)। এ সময় মামুনের বড় ভাই বেচু মিয়া (২৫) আহত হয়েছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, দুপুরে মনপুরা উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের কুলাগাজী তালুক গ্রামের মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে মামুন ও বেচু মিয়াসহ ৫ জেলে কুলাগাজী তালুক গ্রামের উত্তর পাশের মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে নামেন। দুপুর আড়াইটার দিকে বজ্রপাত মামুন ও বেচু মিয়ার গায়ে পড়ে। এতে দুইজনই গুরুতর আহত হন। পরে অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মামুনের মৃত্যু হয়। আহত বেচু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মনপুরা থানা পুলিশের ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ওসি মো. এনামুল হক জাগো নিউজকে জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার হাকিম উদ্দিন এলাকার মেঘনা নদীর তীরে মই জাল দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন রাফসানসহ আরেক জেলে। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে রাফসানের মৃত্যু হয়। নিহত রাফসান মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আবদুল হাইয়ের ছেলে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কলেজছাত্র আহসান হাবিব (২০) ভুরুলিয়া এলাকার প্রতিবন্ধী আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি রিকশা চালিয়ে খুলনা বঙ্গবন্ধু কলেজের একাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিলেন।

নিহতের মা নুরজাহান বেগম জানান, করোনার কারণে মার্চ মাসে খুলনা থেকে বাড়িতে আসে হাবিব। প্রতিবন্ধী বাবা কোনো উপার্জন করতে পারে না। তাই হাবিব খুলনায় রিকশা চালিয়ে লেখাপড়া করছিল। পরিবারের দেখাশুনাও করতো। পুকুরে কিভাবে গেল জানি না।

নিহতের চাচা শোয়েব আক্তার জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর তারা সাধুর হাটখোলা এলাকায় গল্প করছিলেন। রাত ৯টার দিকে ভাত খাওয়ার কথা বলে আহসান হাবিব বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু রাতে বাড়িতে ফেরেনি।

খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি তার। পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আতিয়ার সরদারের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শ্যামনগর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহের সঙ্গে থাকা একটি মুঠোফোন ও একটি ওড়নাসহ বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মাঠে নেমেছে। এছাড়া এটি আত্মহত্যা না অন্যকিছু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে।

রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জেলার পীরগাছায় রাতে মাছের খামারে বৈদ্যুতিক বাল্ব লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা- ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব পরান গ্রামের মাছের খামার থেকে ওই দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তারা হলেন, উপজেলার ওই গ্রামের আজিজার রহমান (৬০) ও তার ছেলে সুজন মিয়া (২৪)।

পলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজিজার রহমান নিজেদের পুকুরে মাছ চাষ করেন। সোমবার (১জুন) রাত ১২টার দিকে ছেলে সুজনকে নিয়ে পুকুরে কলার ভেলায় চড়ে বৈদ্যুতিক বাল্ব লাগাতে যান আজিজার রহমান। এসময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা-ছেলে।

এদিকে রাতে তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের খুঁজতে থাকেন। কিন্তু রাতভর তাদের কোনো সন্ধান পাননি তারা। পরে সকালে পরিবারের লোকজন পুকুরে তাদের ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। এসময় আজিজার রহমানের জামাতা আমিনুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। তাকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক বাল্ব লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে হৃদয় নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভেলাতৈড় ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পীরগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার সুজন।

নিহত হৃদয় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার মৃত হবিবুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইক চালক ছিলেন।

সহকারী স্টেশন মাস্টার জানান, দুপুরে দিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এসময় উপজেলার ভেলাতৈড় নামক স্থানে স্টেশনের রেলক্রসিং দিয়ে ইজিবাইকটি পার করার চেষ্টা করলে ট্রেনের নিচে পড়ে কাটা পড়েন হৃদয়।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার নকলায় গর্তের পানিতে ডুবে আরাফাত নামে আড়াই বছরের এক শিশু মারা গেছে। সে উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামের মো আরিফ মিয়ার ছেলে। গতকাল সোমবার রাতে ধুকুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার পর পরই উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামে বৃষ্টি শুরু হয। এরপর শিশু আরাফাত সবার অজান্তে বসত ঘরের সাথে থাকা গর্তের পানিতে পড়ে ডুবে যায়।

আরাফাতকে ঘরে না পেয়ে তার মা-বাবা ও স্বজনরা আশপাশের এলাকায় খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে বসত-ঘরের সাথে থাকা গর্তের পানিতে আরাফাতের মৃতদেহ ভেসে ওঠে। নকলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, একই উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় হালিমা নামে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার বানেশ্বরদী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত কুবেদ আলীর স্ত্রী। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার গণপদ্দী-চন্দ্রকোনা সড়কের বানেশ্বরদী পূর্বপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে দশটার দিকে হালিমা বেগম বানেশ্বরদী পূর্বপাড়া এলাকায় সড়কের উপর বোরো ধান শুকাচ্ছিলেন। এসময় গণপদ্দীগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হালিমাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

নকলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অটোরিকশাটি আটক করেছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। পরিবারের আবেদনক্রমে নিহতের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বালুভর্তি পিকআপভ্যানের চাপায় মো. নাঈম (১০) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ইলির গোজা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নাঈমের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা।

নিহত নাঈম উপজেলার টুমচর গ্রামের প্রবাসী জয়নাল আবদিনের ছেলে ও লক্ষ্মীপুর আলীয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট থেকে বালুভর্তি একটি পিকআপভ্যান (লক্ষ্মীপুর-শ, ১১-০০২০) ঘটনাস্থলে এসে নাঈমকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা চালক ও পিকআপটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন জানান, চালক ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, পল্লী বিদ্যুতের কনস্ট্রাকশন ফার্মের ক্রেন উল্টে চাপা পড়ে হেদায়েত উল্লাহ (৩৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

তিনি জেলার লালমাই উপজেলার দক্ষিণ চনগাঁও গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ শ্রমিক। মঙ্গলবার সকালে জেলার সদর দক্ষিণের মোহনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ জানান, কনস্ট্রাকশন ফার্মের ক্রেন খুঁটি বসানোর জন্য শ্রমিক নিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী রেল লাইনের নিকট যাচ্ছিল। মোহনপুর এসে ক্রেনটি উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে চাপা পড়ে ছয় শ্রমিক। এদের মধ্যে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু হেদায়েত উল্লাহ নামের এক শ্রমিক ঘটনাস্থলে অনেক সময় চাপা পড়ে থাকায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কুমিল্লা প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান জানান, কুমিল্লা-নোয়াখালী রেললাইনের কাছে খুঁটি বসানোর জন্য ক্রেনটি যাচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জেনেছি চালকের অসতর্কতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]