সিলেটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এডিসের লার্ভা, ৬ দোকানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ০৯ জুলাই ২০২০

সিলেট নগরের ছয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রাখা মালামালে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বছরব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দক্ষিণ সুরমায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয়টি দোকানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মোট ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা গেছে, সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার টার্মিনাল রোড ও ভার্থখলা এলাকায় দোকানের সামনে রাস্তার ওপর ও পাশে সরকারি জায়গা দখল করে স্যানিটারি সামগ্রী স্তূপ করে রেখেছেন দোকান মালিকরা। এতে বৃষ্টির পানি জমে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে বার বার সতর্ক করার পরও সেগুলো সরিয়ে নেননি তারা।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে সিলেট সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। এতে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করে।

এডিসের লার্ভার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পণ্য রাখার অভিযোগে ছয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ধর স্যানিটারি মার্ট ও নাজমুল অ্যান্ড ব্রাদার্স-২ নামক দুই দোকানকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা, মেসার্স হিমালয় স্যানিটারিকে ১৫ হাজার, মেসার্স কয়েছ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে পাঁচ হাজার টাকা, অপর দুটি দোকানকে যাথাক্রমে চার হাজার ও দুই হাজার টাকা করে মোট ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এছাড়া সরকারি জায়গা থেকে দুইদিনের মধ্যে পণ্য সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। খোলা স্থান থেকে পণ্যগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গুদামজাতের নির্দেশও দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিসিকের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ তৌফিক বকস ও সিসিকের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।

অভিযানে সহায়তা করেন সিলেট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কিট তত্ত্ববিদ মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি অভিযুক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা স্থানে রাখা প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পান।

jagonews24

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গতবার এসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার কারণে এবার সিসিকের পক্ষ থেকে বছরের শুরু থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা খোলা স্থান থেকে তাদের পণ্য সামগ্রী সরিয়ে নিলেও প্লাস্টিক ও সিরামিকের ব্যবসায়ীরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে এলাকায় ডেঙ্গু মশার জন্ম হয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, নগরবাসীকে ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা করতে বছরব্যাপী কার্যক্রম চালাচ্ছে সিসিক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার জন্য নগরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ তৌফিক বকস বলেন, এডিস মশা বংশ বৃদ্ধি সহায়ক পরিবেশ ধ্বংস করতে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। বেআইনিভাবে সরকারি জায়গা থেকে পণ্য সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হলেও তারা নেননি। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এডিস মশার সম্ভাব্য উৎসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকতে দেবেন না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব দেখা দিলে নতুন করে স্বাস্থ্য সঙ্কটে পড়বে নগরজীবন। ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়তে নগরবাসীর সহযোগিতাও চান সিসিক মেয়র।

ছামির মাহমুদ/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]