বন্যায় পানিবন্দি মির্জাপুরের ১৬ হাজার পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ২২ জুলাই ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা বন্যার পানি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার পরিবারকে পানিবন্দি করেছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৩৮৮ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুইটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মাদরাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বংশাই, লৌহজং ও ঝিনাই নদীর ভাঙনে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার গ্রামীণ আঞ্চলিক সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দেওহাটা গরুর হাটসহ বিভিন্ন হাট বাজার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্রেতা বিক্রেতারা। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৩০টি পুকুর ডুবে গেছে। এছাড়া ১৫০টি খামার মালিক তাদের পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানির কারণে স্থানীয় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও গ্রামীণ আঞ্চলিক সড়ক। পানি প্রবেশ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বসতবাড়িতে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার পরিবার। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

flood

মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে জানান, পৌরবাসী পৌরকর না দেয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না। বন্যায় পৌরবাসীর দুর্ভোগে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া, কুরনী- ফতেপুর, দেওহাটা-ধানতারা, মির্জাপুর-কামারপাড়া, মির্জাপুর-বরাটিহাট, মির্জাপুর-পাথরঘাটা, আছিমতলা-উফুলকি, কলিমাজানি-পথহারা সড়কসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

মির্জাপুর মহিলা কলেজ, শফি উদ্দিন মিঞা অ্যান্ড একাব্বর হোসেন টেকনিকেল স্কুল ও কলেজ, কহেলা কলেজ, বুড়িহাটী উচ্চ বিদ্যালয়, ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

flood

অপরদিকে বাওয়ার কুমারজানি, ভাওড়া, বাঙ্গলা, গল্লী-২টা, কাটরা, কড়াইল, মহেড়া, ডুকলাহাটী, গবড়া, কররা কাওয়ালজানি, রানাশাল, বাইমাইল, মহদী নগর, মশাজান, গোহাইলবাড়ি, পাইখার, হাড়িয়া, আড়াইপাড়া, বরদাম ও পারদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিক, আনাইতারা ও গলচারা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ফতেপুর, বহুরিয়া ও ভাদগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাকি ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যোগাযোগের রাস্তা তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার প্রায় ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ৬০-৬৫টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে স্থানীয় লোকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

flood

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বহুরিয়া, ভাদগ্রাম ও ফতেপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

পানিবন্দি এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে ফতেপুর ও লতিফপুর ইউনিয়নে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই ত্রাণ সহায়তা অন্যান্য এলাকায়ও অব্যাহত থাকবে। এছাড়া পৌরসভা এলাকায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় চলাচলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এরশাদ/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]