ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল, পারাপারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৭:২১ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২০

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। শনিবার (০৮ আগস্ট) শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে যাত্রীদের ঢল নামে। ফেরি ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন।

শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলোতে যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ধারণক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে চলাচল করছে ফেরি। এতে ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। সেই সঙ্গে আটকা পড়েছে হাজারো যাত্রী। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পারাপারে ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বেশির ভাগ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

jagonews24

বরিশাল থেকে আসা আফসানা বেগম বলেন, ঈদের ছুটি শেষ। কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছি। অনেক কষ্ট করে মাইক্রোবাসে বরিশাল থেকে এ পর্যন্ত এসেছি। ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসেছি। এখানে এসে দেখি মানুষের চাপ। ৭-৮টি ফেরি চলছে। তাও যানবাহন বেশি নিচ্ছে ফেরিগুলো। ফেরিতে পদ্মা নদী পার হতে অনেক সময় লাগে। নদীতে স্রোত বেশি। তাই লঞ্চ আর স্পিডবোটে যাব না সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঘাটে অনেক ভিড়। ভিড়ের কারণে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার আর মোটরসাইকেলের জন্য ফেরিতে উঠতে পারছি না।

নড়াইল থেকে আসা বাদল হাওলাদার বলেন, কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে দেখলাম করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। যে যার মতো করে আসা-যাওয়া করছেন। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। এমনকি ঘাট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোনো তদারকি নেই।

ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আসা স্বাধীন পাল বলেন, ঘাট এলাকায় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি দেখেছি। হ্যান্ড মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কেউ মানছেন না। শুধু প্রচার করাই যেন কাজ। এজন্য রোজার ঈদের পর করোনার সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল। এই ঈদের পর আরেক দফা করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাবে।

jagonews24

কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা যায়, ঈদ শেষ হলেও শনিবার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে ঢাকাগামী দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ ছিল প্রচুর। পদ্মায় স্রোতের কারণে আটটি ফেরি চলাচল করছে। পাশাপাশি ৮৭টি লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। পদ্মায় তীব্র স্রোত ও কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোটের পরিবর্তে ফেরিকে নিরাপদ মনে করছেন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাটের সহকারী ম্যানেজার ভজন কুমার সাহা বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত ও ডুবোচর রয়েছে। ডাম্ব ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রো রো ও কেটাইপ আটটি ফেরি চলাচল করছে। অ্যাম্বুলেন্স, কাঁচা মালবাহী ট্রাক, জরুরি যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছি। যাত্রী ফেরিতে বেশি পারাপার হওয়ায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায়।

বিআইডব্লিউটিসিরর কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ম্যানেজার আবদুল আলীম মিয়া বলেন, কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তিনটি ঘাটই সচল। শিমুলিয়া প্রান্তে প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকাসহ বারবার ফেরিঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। পদ্মায় তীব্র স্রোত। ধীরে ধীরে ফেরি চলতে হয়। এজন্য অনেক যানবাহন ঘাটে আটকা পড়েছে।

jagonews24

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছেন। সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]