টানা বর্ষণে পটুয়াখালীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১০:৪২ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২০

জোয়ারের প্রভাব ও গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পটুয়াখালীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে মাছের ঘেরও পানিতে তলিয়ে গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সদর উপজেলার জামুরা ইউনিয়নের জামুরা গ্রামের কৃষক করিম ফকির বলেন, জোয়ার ও বৃষ্টিতে তার সবজির বাগান তলিয়ে গেছে। খেতে করলা, ঝিঙ্গা ও কুমড়া চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পানিতে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এবার পুরা মাথায় হাত।

একই এলাকার কৃষক সাইফুল চৌকিদার বলেন, কত স্বপ্ন নিয়ে সবজি চাষ করেছিলাম। পানিতে সব স্বপ্ন ভেসে গেল।

jagonews24

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, মাঠে এখনও প্রচুর পানি। আজ পানি নামতে শুরু করেছে। পানি সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য বলা যাবে। তবে শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৩২ হাজার হেক্টরের উপর আমন ধান তলিয়ে গেছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বাঁধ নিচু হওয়া ও অর্থ অভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে গেছে। তবে বর্তমানে কোথাও পানিবন্দি নেই। পানি উঠলেও কিছু সময় পরে নেমে যায়। এরপরও সমস্যা সমাধানে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

jagonews24

জেলা মৎস্য অফিসার মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জোয়ারের পানি ও ভারী বৃষ্টিপাতে পটুয়াখালীর ১৫ শতাংশের মতো ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ১ লাখ ৪৭ হাজার পুকুর রয়েছে, যার মধ্যে ২২ হাজার পুকুর প্লাবিত হয়েছে। এতে ২৫ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক কাজী কেরামত বলেন, শনিবার ভোর ৬টা থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ৩৩ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]