শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলকারী সেই যুবলীগ নেতা আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৪ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে একটি পরিবারের প্রায় শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অন্যতম মূলহোতা কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার লাহিনী এলাকায় তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত।

পুলিশ জানায়, গত দু'দিন ধরে সুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে সুজন আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার জমির ক্রেতা প্রতারক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাটদহচর গ্রামের মৃত সাহাজদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মহিবুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর শনিবার পুলিশ জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে অন্যের মালিকানাধীন জমি নিজের বলে প্রতারণা করে বিক্রি করার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

তারা হলেন, কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার খন্দকার আবুল হোসেন ছেলে মো. ওয়াদুল ওরফে মিন্টু খন্দকার (৬০), কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মো. মিলন হোসেন (৩৮), মিন্টু খন্দকারের বোন কুমারখালী উপজেলার লাহিনী দাসপাড়ার সাত্তার শেখের স্ত্রী ছানোয়ারা খাতুন (৫০) ও অপর বোন খন্দকার আব্দুল আজিজের স্ত্রী মোছা. জাহানারা খাতুন (৪৫)।

পুলিশ জানায়, চক্রটি কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন, কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকার বেঙ্গল হার্ডওয়্যারের মালিক মহিবুল ইসলামসহ কয়েকজনের সাথে যোগসাজশে কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোডের বাসিন্দা মৃত এম, এম, এ হাকিমের ছেলে এমএমএ ওয়াদুদের পৈত্রিক সম্পত্তি তার মা মোকসুদা খাতুন, চার বোন রিজিয়া খাতুন, বাসেরা খাতুন, সেলিমা কবির ও শামীমা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে তাদের নামে ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করে ০.২২ একর জমি বিক্রয় করে।

Kustia

এছাড়াও কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মজমপুর, চৌড়হাস, বাহাদুরখালী মৌজার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা করে। জালিয়াত চক্রটি ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে রাতারাতি অন্যের জমির মালিক বনে যান।

চক্রটি এখানেই থেমে থাকেনি। তারা শহরের এনএস রোডে আব্দুল ওয়াদুদের দোতলা বাড়িসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তিও একই কৌশলে বিক্রির চেষ্টা করছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী ওই জমির প্রকৃত মালিক নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, জমির ক্রেতা মিরপুরের কাটদহচর গ্রামের মহিবুল ইসলাম রাজা মেটাল ইন্ডাঃ লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার মাসিক বেতন ৩৫ হাজার টাকা। সামান্য বেতনে চাকরি করে মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ব্যক্তি কিভাবে ৭ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি ৭৭ লাখ টাকার বিনিময়ে করেন।

জানা যায়, ধরা ছোয়ার বাইরে থাকার জন্য জমি ক্রয়ের ৭৭ লাখ টাকা তাকে প্রদান করেন বড়বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম।

এদিকে গণমাধ্যমে জালিয়াতির সংবাদ প্রকাশিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় দলীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, আশরাফুজ্জামান সজুন বিএনপি আমলে ছাত্রদল করতেন। ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ মে ছাত্রদল নেতা সুজনকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট শহর যুবলীগের কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এরপর থেকে সুজন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অন্যের জমি দখলসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

আল-মামুন সাগর/এমএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]