উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শুনানি, এবারও যাননি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের লিখিত দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানির আয়োজন করেছিল ইউজিসি।

১৭ সেপ্টেম্বর ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুইদিনে ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটি শুনানি শেষ করেছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা শুনানিতে উপস্থিত হলেও ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটির শুনানিতে উপস্থিত হননি প্রশাসনের কেউ। তাদের ছাড়াই শনিবার বিকেলে ইউজিসির মিলনায়তনে তদন্ত কমিটি নিজেরাই আলোচনা সারেন।

জানতে চাইলে ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম বলেন, শুনানিতে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান উপস্থিত হননি। অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন।

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, তদন্ত কমিটি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তদন্তের প্রয়োজনে যা যা করা দরকার সব করব। কাউকে ডাকার প্রয়োজন হলে ফের চিঠি দিয়ে ডাকা হবে।

গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) দাখিল করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।

অভিযোগপত্রে মোট ১৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং উপাচার্য কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে ধোঁকা দেয়া ও শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করে উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দেয়া, এডহক ও মাস্টাররোলে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, উপাচার্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুর্নীতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩ লঙ্ঘন করে বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি নিয়োগ ইত্যাদি অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগ তদন্তে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে এ উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করা হয়।

৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি ডাকা গণশুনানিকে বেআইনি, আদালত অবমাননাকর ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্বের শামিল বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।

গত বৃহস্পতিবার শুনানিতে অভিযোগের দলিলপত্রসহ বক্তব্য উপস্থাপন করেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। এতে অভিযোগকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগর, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জিন্নাত আরা ও সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সালমান শাকিল/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]