রাতারগুল ওয়াচ টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

পরিবেশকর্মীদের আপত্তি উপেক্ষা করে ২০১৪ সালে সিলেটের গোয়ানাইঘাট উপজেলার জলারবন রাতারগুলে ওয়াচটাওয়ার নির্মাণ করেছিলে বনবিভাগ। দর্শনার্থীদের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরো বন দেখার সুবিধার্থে এ টাওয়ার নির্মাণ করার কথা সেসময় জানিয়েছিলেন বনের কর্মকর্তারা। তবে নির্মাণের ছয় বছরের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বনের ভেতরে নির্মিত এই টাওয়ারটি। টাওয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দর্শনার্থীদের উঠতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনবিভাগ।

সিলেট বন বিভাগের সারি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সাদ উদ্দিন বলেন, অনেকদিন ধরেই ওয়াচ টাওয়ারটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা ইতোমধ্যে একসঙ্গে ৪-৫ জনের বেশি দর্শনার্থী এ টাওয়ারে না ওঠার নির্দেশনা দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছি। কিন্তু কেউ মানছেন না। একসঙ্গে শত শত মানুষও টাওয়ারে উঠে পড়েন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমরা এই টাওয়ারে দর্শনার্থী ওঠা আপাতত নিষিদ্ধ করছি। পরবর্তীতে প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এই টাওয়ারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্বীকার করে কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, এক পলকে পুরো জলারবন দেখার লোভ সামলানো দায়। তাই ঝুঁকি নিয়েই উঠছি।

জানা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রাতারগুল জলার বনকে ১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে বন বিভাগ। নদী ও হাওরবেষ্টিত ৫০৪ দশমিক ৫০ একর আয়াতনের পুরো এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা।

২০১৪ সালে বনের ভেতরে ৫০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে বন বিভাগ। ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই টাওয়ার নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই পরিবেশকর্মীরা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। টাওয়ারের কারণে বনের ভেতরে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে এবং এতে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নষ্ট হবে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন তারা।

পরিবেশকর্মীদের আপত্তির মুখে দুদফা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখলেও পরে তা সম্পন্ন করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ওয়াচ টাওয়ারে উঠে রাতারগুল বন দেখতে জড়ো হন।

এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]