নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ছবি : রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি। দখল ও দূষণে অবরুদ্ধ সোনাদিঘি সাজছে নান্দনিকভাবে। সোনাদিঘি ঘিরে গড়ে উঠছে সিটি কমপ্লেক্স। সোনাদিঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে।

দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার। পুরাতন স্থাপনা ভেঙে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

স্থানীয়রা বলছেন, একসময় সোনাদিঘি ছিল অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র। সোনাদিঘির চারপাশ উন্মুক্ত ছিল। এর পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে তা দিয়ে এলাকাবাসীর রান্নার কাজও চলতো। পানিতে যাতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, তা তদারকির দায়িত্বে থাকতেন রাজশাহী পৌরসভার কর্মচারীরা।

পদ্মা নদীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল সোনাদিঘি। এতে ভরা বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি ঢুকত দিঘিতে। নদীর ঘোলা পানি থিতিয়ে যাওয়ার পর দেখা মিলতো স্বচ্ছ পানির। ১৯৮০-৮১ সালের দিক থেকে সোনাদিঘির চারপাশে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়। ঢাকা পড়ে সোনাদিঘির মুখ। রাস্তা থেকে আর সোনাদিঘি দেখা যেতো না তখন।

সোনাদিঘির হারানো ঐতিহ্য ফিরে আনতে ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে উদ্যোগ নেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) এর আওতায় ‘এনা প্রপার্টিজ’ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৬ তলাবিশিষ্ট ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণ ও সোনাদিঘিকে সাজানোর চুক্তি করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের প্রথম মেয়াদের সময়কালে (২০০৮-১৩) নির্মাণকাজ এগোলেও পরবর্তী পাঁচ বছর কাজ বন্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু এখনও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর সিটি সেন্টার ও সোনাদিঘিকে সাজানোর কাজে গতি ফেরান মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

jagonews24

ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সোনাদিঘিকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের সিটি সেন্টারে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সোনাদিঘি মসজিদকে সিটি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরপর শুরু হয় স্থাপনা ভাঙার কাজ।

নির্মাণকাজ ও সাজানো শেষে সিটি সেন্টার হবে অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। সোনাদিঘি হবে দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র। সোনাদিঘিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার পুরো চিত্রই পাল্টে যাবে। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি পুরো বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও এর সুফল ভোগ করবেন।

জানা গেছে, এই দিঘির চারপাশে পর্যাপ্ত বসার জায়গা রাখা হবে। পরিবার নিয়ে মানুষ সেখানে বসবে। উপভোগ করবে স্বচ্ছ পানির জলাধার। রাতে আলোকায়ন থাকবে। থাকবে ফোয়ারা। সংস্কার শেষ হলে তিন দিক থেকে সোনাদিঘিকে দেখা যাবে। তখন এটি আগের মতোই নগরের একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ঐহিত্যবাহী সোনাদিঘি পাড়ে নবনির্মিত সিটি সেন্টার হবে রাজশাহীর সবচেয়ে চমৎকার আধুনিক বহুতল ভবন। সোনাদিঘিকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে। নির্মিত হবে নতুন মসজিদ। থাকবে বসার ও হাঁটার রাস্তা এবং উন্মুক্ত জায়গা। রাতে আলোকায়ন করা হবে। দিঘিকে সংস্কার করে স্বচ্ছ পানির ব্যবস্থা করা হবে। কাজ শেষে সোনাদিঘি ফিরে পাবে তার ঐতিহ্য ও নিজস্ব স্বকীয়তা।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]