খাগড়াছড়িতে নারীকে গণধর্ষণে জড়িতদের পরিচয় হয় জেলখানায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

খাগড়াছড়িতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে (২৬) গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন থানায় ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে সাজাভোগ করেছে তারা। জেলখানায় থাকা অবস্থায় তাদের পরিচয় হয়। জেলখানা থেকে বের হয়ে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ ও বাড়ি লুটপাটের ঘটনায় সাত আসামিকে গ্রেফতারের পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলেন এসব কথা বলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বলপাইয়ে আদাম এলাকায় গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন এমন খবরে শুক্রবার রাতে অভিযানে নামে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেফতারদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির টাকা, লুণ্ঠিত টাকা এবং মোবাইলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্বার করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনায় কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি ছিল না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে মামলার ক্লু উদঘাটন করেছি।

গ্রেফতাররা হলেন- খাগড়াছড়ির রামগড়ের তৈচালা এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. আল-আমিন (৪০), একই উপজেলার দারোগাপাড়া এলাকার আহমদ উল্লাহর ছেলে মো. অন্তর (২০), মাটিরাঙ্গার আদর্শ গ্রাম এলাকার মো. হাবিল মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল হালিম (২৮) ও মুসলিমপাড়ার শামছুল হকের ছেলে মো. আব্দুর রশিদ (৩৭), গুইমারার বড়পিলাক এলাকার মো. আকবর আলীর ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (২১) ও আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. শাহিন মিয়া (১৯) এবং খাগড়াছড়ির কুমিল্লাটিলা এলাকার মো. আকবর আলীর ছেলে মো. বেলাল (৩২)।

এদের মধ্যে ইকবালের নামে চারটি, আল-আমিনের নামে তিনটি, শাহিনের নামে একটি এবং অন্তরের নামে দুটি মামলা রয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ।

বুধবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বলপাইয়ে আদাম এলাকায় সবাই যখন ঘুমে তখন সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। পরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে পাশের রুমে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এ সময় তারা বাড়ির আলমারি থেকে তিন ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে বাইরে থেকে ঘর আটকে দিয়ে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে গৃহকর্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গণধর্ষণের শিকার নারীর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]