এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেয়ার মামলারও আসামি রবিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিলেটের ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলার ৫ নম্বর আসামি কলেজ শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি ও ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল হাসান (২৫)। বর্তমানে তিনি এ মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে। ২০১২ সালের ৮ জুলাই রাতে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ৪২টি কক্ষ পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলারও আসামি এই রবিউল। দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তাকে রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। সে প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ঘুরে বেরিয়েছে।

গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের বড় নগদিপুর গ্রামে। গ্রেফতার এড়াতে তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কাজীগঞ্জ বাজারের নিজআগনা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রবিউলকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রবিউল এমসি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করও এখনও কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের গ্রুপিং রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে রবিউল ইসলামের বাবা দেলোয়ার হোসেন (৬৫) জানিয়েছেন, তার ছেলে দোষ করে থাকলে শাস্তি হোক, এটা তিনিও চান। তিনি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে নেই।

তিনি দাবি করেন, তার ছেলে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। রবিউল পড়াশোনার জন্য ২০১৪ সালে সিলেট যায়। সিলেট নগরে প্রথমে নানার বাড়িতে থাকত রবিউল। পরে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ওঠে।

জানা গেছে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেয়ার ঘটনার মামলা এবং আরেকটি ছিনতাই মামলারও আসামি আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় সিলেটের আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

দিরাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, রবিউলের বিরুদ্ধে সিলেট থেকে পাঠানো দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জোতির্ময় সরকার বলেন, আসামির স্থায়ী ঠিকানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা চলে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে থাকলে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানোর কথা। এছাড়া দিরাই থানা পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানার রিকুইজিশন পাঠিয়েছিল কি-না আমার জানা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯। এদের মধ্যে ছয়জনকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

এরা হলেন- মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও পাঁচ নম্বর আসামি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল হাসান, এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]