ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের চারদিনের মধ্যেই সব আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার দায়ের করা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল থেকে মামলার সর্বশেষ আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৯। এছাড়া অজ্ঞাত আসামিদের মধ্যে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামির সবাইকে ঘটনার চারদিনের মধ্যে গ্রেফতার করলো র‍্যাব ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশ। তবে ঘটনা মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা এলাকায় হলেও মহানগর পুলিশ এ মামলার একজন আসামিও গ্রেফতার করতে পারেনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় র‍্যাব-৯ এর কর্মকর্তা এএসপি কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেককে আমরা গ্রেফতার করেছি। আসামিকে সিলেট নিয়ে আসা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে মামলার এজাহারনামীয় সব আসামি গ্রেফতার হলো’।

গ্রেফতারকৃত তারেক সুনামগঞ্জ পৌরশহরের উমেদনগর নিসর্গ ৫৭ নম্বর বাসার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অনুসারী ছাত্রলীগকর্মী। এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনউদ্দিন ও রাজন নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সোমবার রাত ১২টায় জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর থেকে এই মামলার আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানাপুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশ।

এর আগে, রোববার সকালে ছাতক থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও মাধবপুর থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। রোববার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করা হয়।

একই রাতে হবিগঞ্জ সদর থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এজাহারে নাম না থাকলেও এই ঘটনার পর থেকে আইনুদ্দিন ও রাজনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিরাও এ ঘটনায় আইনুদ্দিন ও রাজন জড়িত বলে আদালত জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেট কারের মধ্যেই পালাক্রমে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার তরুণী।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতারকৃত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ছামির মাহমুদ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]