মুন্সিগঞ্জের ৬৭ ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির হদিস নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। ২০১৫ সালে মুন্সিগঞ্জবাসীকে সেই বই উপহার দেন সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৃণমূলপর্যায়ে মানুষের ঘরে ঘরে বই পৌঁছানোর লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় একটি করে এ ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু করা হয়।

কিন্তু এই উদ্যোগে উপকৃত হননি ইউনিয়ন পর্যায়ের বইপ্রেমীরা। কেউ কেউ আজও দেখেননি প্রায় লাখ টাকা ব্যয়ে চালু করা সেই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এর কোনোটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ইউপি ভবনের পাশে অথবা ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায়। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির খোঁজ রাখেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নের নিজস্ব অর্থায়নে লাইব্রেরিগুলো চালু করা হয়। প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভ্যান তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। বইকেনা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার। লাইব্রেরিয়ানের মাসিক বেতন ধরা হয়েছিল ১৫শ টাকা। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে এই লাইব্রেরির যাবতীয় খোঁজখবর ও বইয়ের চাহিদা রেজিস্ট্রার তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ইউপি সচিবকে। আর এই লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ইউপি চৌকিদারকে। তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও নজরদারির অভাবে আজ মুন্সিগঞ্জের মানুষ জ্ঞানার্জনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার যসলং ইউনিয়নের বাসিন্দা ফারুক মোল্লা বলেন, কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভ্যান দেখেছি। কিন্তু তার মধ্যে কোনো বই দেখিনি।

সেরাজাবাদ রানা শফিউল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম জানান, তার ইউনিয়ন কামারখাড়ায় এখনও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম দেখেননি। তিনি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সুবিধা না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

সদর উপজেলার মহাখালী ইউনিয়নের রাকিব হাসান বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা ও বই পড়া থেকে বঞ্চিত আমরা। আমাদের ইউনিয়নে কখনও এ রকম কিছু দেখিনি।

শিলই ইউনিয়নের সৌরভ বেপারি বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভ্যানটি ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কোনো সুবিধা আমরা পাইনি।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ফিরোজ হোসেন বলেন, এই রকম কোনো ভ্যান আমাদের গ্রামে বই নিয়ে আসেনি। আমরা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির থেকে সেবা পেতে আগ্রহী।

তরুণ লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন বলেন, মুন্সিগঞ্জের ইতিহাস থেকে দেখা যায় শত বছর আগেও মুন্সিগঞ্জের হাসাইল বানারীতে একাধিক সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই হাসাইল বানারীতে একটিও পাঠাগার নেই। এটা সত্যিই আমাদের ব্যথিত করে।

দিঘীরপাড়, বাংলাবাজার, কে-শিমুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বইপ্রেমীরাও একই কথা জানান। তাদের দাবি- জেলা প্রশাসক ও প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং দায়িত্ববান ব্যক্তিরা খুব শিগগিরই যেন সকল ইউনিয়নে লাইব্রেরি সুবিধা দিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। পৌরসভার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য হয়েছেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী আবির ও মেহেদী। তারা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়েন।

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দ্বীপক কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। সাবেক জেলা প্রশাসক স্যার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিগুলো চালু করে গিয়েছিলেন। কীভাবে এগুলো পরিচালিত হবে, অর্থের উৎসটা কোথা থেকে আসবে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে।

আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]